ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতকে কখনোই হারাতে পারেনি পাকিস্তান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবার পাকিস্তান ভারতকে হারাতে পেরেছিলো। অথচ ২০২১ সালের সেই জয়কেই পাকিস্তানের ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষতির কারণ মনে করছেন মোহাম্মদ ইউসুফ। সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার এর পেছনে নিজের যুক্তিও তুলে ধরেছেন।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের শোচনীয় হারের পর দল থেকে একযোগে সাতজন খেলোয়াড় ও প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে বাদ দিয়েছে পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড)। তবে ইউসুফের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটের এই পতন রাতারাতি হয়নি; এর শুরুটা হয়েছিল ২০২১ সালে দুবাইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সেই জয়ের পর থেকেই।
বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচণ্ড অহংকার ও আত্মতুষ্টি চলে আসে বলে জানান ইউসুফ। তার মতে, মাঠের খেলার চেয়ে খেলোয়াড়দের এই অহংকারী মনোভাবই আজকের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
সামা টিভির এক অনুষ্ঠানে ইউসুফ বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ওই জয়টাই আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবা শুরু করল তারা বিশাল কিছু করে ফেলেছে। এরপর কী করতে হবে, তা তারা ভুলেই গেল। পারফর্ম করলে বিনয়ী থাকতে হয়। অহংকার দেখালে বিপদ আসবেই, আর এখন পাকিস্তান ক্রিকেটে ঠিক সেটাই হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের সবাই তখন অধিনায়ক হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছিল। যার মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল জঘন্য। বোর্ড বারবার কোচ বদলেছে, সবরকম সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু কোনো খেলোয়াড় দায়িত্ব নেয়নি। পিসিবি এখন যে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, আমি তাকে পুরোপুরি সমর্থন করি।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রান এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রান পার করতে পারেনি সফরকারীরা। এই বিপর্যয়ের পর সফর চলাকালেই মোস্তাফিজুর রহমানদের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান শিবিরের মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা’র মতো তারকা সহ সাতজনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের জায়গায় আনা হয়েছে সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফজলসহ একঝাঁক নতুন মুখকে।
চলতি সফর চলাকালীন বোর্ডের এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপকে সঠিক বলে মনে করেন ইউসুফ, ‘পিসিবি ঠিক সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৯টি দলের মধ্যে পাকিস্তান এখন ৯ নম্বরে! দেশের মান-সম্মান ডুবছে, এমন অবস্থায় বোর্ড চুপ করে বসে থাকতে পারে না।’
বর্তমানে টেস্ট দলের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।
