জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)।
একে ইরানের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ আখ্যা দিয়েছে রক্ষীবাহিনী।
বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
চলতি সপ্তাহে রক্ষীবাহিনী অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহার করে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে। ওই হামলার জবাবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করে।
এবার তেহরান জর্ডানে হামলা চালাল। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে এটি ছিল জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটির বিরুদ্ধে ইরানের দ্বিতীয় হামলা।
যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা চলছে। কেউ যুদ্ধে এগিয়ে আছে বা পিছিয়ে আছে, এমনটা বলার উপায় নেই।
বৈশ্বিক তেল-গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অপরদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোকে অবরুদ্ধ রেখে ও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
আজ বুধবার ইরান জানিয়েছে, তাদের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের কাছে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
এর কয়েক মিনিট পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা রক্ষীবাহিনী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-আজরাক-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত স্থাপনা, যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থান এবং যুদ্ধবিমানের আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ইরনাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব হামলার আগে কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের কাছে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারের নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যেতে বলেছিল তেহরান। সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এসব জাহাজ ‘লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে’।
জর্ডানের আজরাক অঞ্চলে রাজকীয় জর্ডানি বিমান বাহিনীর (আরজেএএফ) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিমানঘাঁটির অবস্থান।
আনুষ্ঠানিক নাম ‘মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি’ হলেও এটি আল আজরাক ঘাঁটি নামেও পরিচিত। এটি রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
বর্তমানে এটি জর্ডানের নিজস্ব বাহিনীর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্ররাও ব্যবহার করছে।
