বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) থেকে এসেছিল রীতিমতো চোখধাঁধানো এক প্রস্তাব। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সেই হাতছানি এড়িয়ে দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।
‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যান্টনার সোজাসাপ্টা বলেন, ‘প্রস্তাবটা দারুণ ছিল, লুকিয়ে লাভ নেই। আমার কেন্দ্রীয় চুক্তি আর দেশের আন্তর্জাতিক সূচির বিষয়টি তারা জানত। তাই আমাকে রাজি করাতে যে বেশ বড় অঙ্কের প্রস্তাবই লাগবে, সেটা তাদের জানা ছিল।’
প্রস্তাব নিয়ে ভাবেননি তা নয়, তবে দিনশেষে দেশের ক্রিকেটই তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে। এই কিউই অলরাউন্ডার যোগ করেন, ‘প্রস্তাবটি নিয়ে আমি ভেবেছিলাম। তবে সামনে আমাদের যে ব্যস্ত সূচি—তাতে টেস্টের সব ম্যাচে আমি একাদশে সুযোগ না পেলেও, দলে আমার যে একটা ভূমিকা আছে, সেটা স্পষ্ট অনুভব করি।’
চলতি বছরই ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ রয়েছে কিউইদের; এরপর রয়েছে কঠিন অস্ট্রেলিয়া সফর। স্যান্টনারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলতে গেলে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তার মূল দায়িত্বে টান পড়ত।
নেতৃত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে তার অকপট মন্তব্য, ‘অধিনায়কত্ব হাতছাড়া করার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না। আর এই চুক্তির কারণে যদি অধিনায়কত্ব ছাড়তে হতো, তবে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া এক সেকেন্ডের কাজ ছিল।’
ক্যাজুয়াল কন্ট্রাক্ট না নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলার জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি না রেখে শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলে এসে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াটা এই মুহূর্তে মানানসই লাগত না। আগামী বছর আমাদের বিশ্বকাপ আছে, তার পরের বছর আবার নিজেদের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এসব জায়গায় আমি দলের অংশ হতে চাই। আর তখনও যদি নেতৃত্বের ভার আমার কাঁধে থাকে, তবে তো কথাই নেই!’
তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে যারা ‘ক্যাজুয়াল কন্ট্রাক্ট’ বেছে নিয়েছেন—যার মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পাশাপাশি জাতীয় দলেও খেলা যায়—তাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা বিরূপ মনোভাব নেই স্যান্টনারের।
তার ভাষ্য, ‘যারা ক্যাজুয়াল চুক্তি নিচ্ছেন, তাদের আঙুল তোলার কিছু দেখি না। বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যে পরিমাণের অর্থ ঢালে, আমাদের বোর্ডের পক্ষে তার সঙ্গে টেক্কা দেওয়া অসম্ভব।’
‘যদি এমন চুক্তির মাধ্যমেও ক্রিকেটারদের দেশের প্রতি নিবেদিত রাখা যায় এবং নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলানো সম্ভব হয়, তবে সেটাই তো সবচেয়ে বড় লাভ’, যোগ করেন কিউই অধিনায়ক।
