ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ও রচিত সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।
উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক বিভাগগুলোর মূল পুরস্কার ঘোষণার আগেই এই সম্মানজনক স্বীকৃতি পেল সিনেমাটি। ‘বিসাতো দ’ওরো’ হলো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে দেওয়া একটি স্বাধীন চলচ্চিত্র সমালোচক পুরস্কার।
চলতি বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ‘অরিজোন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এই পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল।
সমকালীন ঢাকাকে পটভূমি করে নির্মিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর গল্প এগিয়েছে ‘জাইনিন’ চরিত্রটিকে ঘিরে। বিয়ের প্রস্তুতি ও সৌন্দর্যচর্চার নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেতে গিয়ে সে আবিষ্কার করে, তার শরীরই হয়ে উঠছে এক অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ক্ষেত্র। নারীবাদী লোক-ভৌতিক, দেহ-ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে মূলত এটাই অনুসন্ধান করা হয়েছে যে কীভাবে নারীর শরীর পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনিন করিম চৌধুরী। আরও আছেন আজমেরী হক বাঁধন ও সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম, মোহাম্মদ বারী, রিকিতা নন্দিনী শিমুসহ আরও অনেকে।
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি খুবই অন্তরঙ্গ একটি জায়গা থেকে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্মাণ করেছি। নারীরা কীভাবে নিজেদের শরীরকে ধারণ করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কখনো কখনো নিজেদের শরীরকেই ভয় করতে শেখে—সেই ভাবনা থেকেই এর জন্ম। ভেনিসের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকসদের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য গভীরভাবে অর্থবহ। আমি চাই, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শক বাংলাদেশকে শুধু তার সামাজিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নয়, বরং তার কল্পনা, লোককথা, অন্ধকার এবং সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েও আবিষ্কার করুক।’
ফ্রাঁসোয়া দার্তেমার প্রযোজিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও পর্তুগালের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা।
