টেনিস কোর্টে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে থাকে, প্রতিপক্ষ যেখানে সামান্য ভুলেই ভেঙে পড়েন—ঠিক তখনো মুখের ভাব বিন্দুমাত্র বদলান না এলেনা রিবাকিনা। আমেরিকান তরুণী কোকো গফ যাকে ‘বরফের মতো শান্ত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন, সেই রিবাকিনাই এখন নারী টেনিসের নতুন নাম্বার ওয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ওপেনের ফাইনালে হারিয়েছেন আরিনা সাবালেঙ্কাকে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব টেনিসের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলেন কাজাখস্তানের এই তারকা।
তবে শুধু ট্রফি বা জয় দিয়ে রিবাকিনাকে পুরোপুরি চেনা যায় না। কোর্টে তার নীরবতা ও শান্ত ভাব নিয়ে ক্রীড়াবিশ্বে কৌতূহল সব সময়ই বেশি।
২০২২ সালে যখন উইম্বলডন জিতে জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম পান, তখনও তার মধ্যে ছিল না বড় কোনো উদযাপনের ছাপ। অন্য খেলোয়াড়দের মতো কোর্টে শুয়ে পড়া বা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করার বদলে শুধু একটি হাত উঁচিয়ে নিজের চেয়ারের দিকে হেঁটে গিয়েছিলেন। তা দেখে পরাজিত প্রতিপক্ষ ওন্স জাবেউ মজা করে বলেছিলেন, ‘আমাকে ওকে ঠিকঠাক উদযাপন করা শেখাতে হবে!’
মস্কোতে জন্ম নেওয়া রিবাকিনা অবশ্য জানান, এটি তার খেলারই এক কৌশল। আবেগ গোপন রাখাকে তিনি নিজের বড় শক্তি মনে করেন। তার ভাষায়, ‘আমার ভেতরে অনেক অনুভূতি কাজ করে। কিন্তু আমি তা বাইরে প্রকাশ করি না। কারণ প্রতিপক্ষ যেন বুঝতে না পারে আমি কখন চাপে আছি বা হতাশ হচ্ছি।’
২০১৮ সালে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ছেড়ে কাজাখস্তানের হয়ে খেলা শুরু করেন রিবাকিনা। তখন তিনি ছিলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৭৫ নম্বর স্থানে থাকা এক সাধারণ খেলোয়াড়। সে সময় কাজাখস্তান টেনিস ফেডারেশন তার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল এবং সব ধরনের সহায়তা দিয়েছিল। এখন সেই দেশের শত শত শিশু তার সাফল্য দেখে টেনিস খেলা শুরু করেছে, যা তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।
ছোটবেলায় পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার কোনো ভাবনাই ছিল না রিবাকিনার। স্কুল শেষে বন্ধুদের সঙ্গে কেবল আনন্দের জন্য খেলতেন। সেই সাধারণ মেয়েটিই আজ তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। সার্ভিস আর পাওয়ার গেমের পাশাপাশি এই পাথরচাপা মানসিক শক্তিই রিবাকিনাকে টেনিস বিশ্বের অনন্য চূড়ায় বসিয়েছে।
