বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) বিগত দুই আসরের ইতিহাস বলছে, ফাইনাল খেলার টিকিট পেতে হলে সাধারণত পয়েন্ট জয়ের হার (পিসিটি) ৬০% থেকে ৬৫% এর উপরে রাখতে হয়।
ছয়টি সিরিজের কঠিন হিসাব-নিকাশে কোন দল কতটা এগিয়ে আর কার কী করতে হবে—এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
১. অস্ট্রেলিয়া (৮০.০০%) — ফাইনালের পথে সবার আগে
বর্তমান অবস্থা: ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে শক্ত অবস্থানে।
বাকি ম্যাচ: ১৪টি টেস্ট (ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড, সফরে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা)।
ফাইনালে ওঠার সমীকরণ: বাকি ১৪ ম্যাচের মধ্যে অন্তত ৬-৭টি ম্যাচ জিতলেই তাদের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত বলা চলে। ভারত বা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কঠিন সিরিজ হলেও ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করলেই কাজ সহজ হয়ে যাবে।
২. দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫.০০%) — ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সেরা সুযোগ
বর্তমান অবস্থা: ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে দুই নম্বরে।
বাকি ম্যাচ: ১০টি টেস্ট (ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ; সফরে শ্রীলঙ্কা)।
ফাইনালে ওঠার সমীকরণ: বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ৬টি জয় তাদের ৭০% এর কাছাকাছি জয়ের হার এনে দেবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তাদের বাকি ৪টি সিরিজের ৩টিই নিজেদের চেনা কন্ডিশনে (ঘরের মাঠে)।
৩. নিউজিল্যান্ড (৭২.২২%) — চমক দেখানোর অপেক্ষায়
বর্তমান অবস্থা: ৬ ম্যাচে ৪ জয়।
বাকি ম্যাচ: ১০টি টেস্ট (ঘরের মাঠে ভারত ও শ্রীলঙ্কা; সফরে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান)।
ফাইনালে ওঠার সমীকরণ: সেমিফাইনাল সমীকরণে টিকতে কিউইদের আরও অন্তত ৬ থেকে ৭টি জয় দরকার। ঘরের মাঠের ৪টি টেস্ট (ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) জেতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া বা পাকিস্তানের মাঠে অন্তত ২-৩টি জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
৪. বাংলাদেশ (৫৫.৫৬%) — রূপকথার ফাইনাল কি সম্ভব?
বর্তমান অবস্থা: ৬ ম্যাচে ৩ জয় (যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোও রয়েছে)।
বাকি ম্যাচ: ৬টি টেস্ট (ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড; সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা)।
ফাইনালে ওঠার সমীকরণ: বাংলাদেশের ফাইনালের রেসে থাকতে হলে পয়েন্ট জয়ের হার ৬০-৬৫% এর উপরে নিতে হবে। এর জন্য বাকি ৬টি টেস্টের মধ্যে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ম্যাচ জিততে হবে। অর্থাৎ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে অন্তত একটি টেস্ট জিততে বা সিরিজ ড্র করতে পারলে ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে।
৫. ভারত (৫১.৫২%) — অলৌকিক কিছু করতে হবে
বর্তমান অবস্থা: ১১ ম্যাচে ৫ জয়। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ হার এবং শ্রীলঙ্কায় এক টেস্ট ড্র তাদের চরম বিপদে ফেলেছে।
বাকি ম্যাচ: ৭টি টেস্ট (সফরে নিউজিল্যান্ড এবং ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া)।
ফাইনালে ওঠার সমীকরণ: ভারতের ভুল করার আর কোনো সুযোগ নেই। ৬০-৬৫% পিসিটি স্পর্শ করতে বাকি ৭টি টেস্টের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬টিতে জিততে হবে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই কাজ করা ভীষণ কঠিন।
৬. ইংল্যান্ড (৩৮.৫৪%) — জয়ের সমীকরণ প্রায় অসম্ভব
বর্তমান অবস্থা: ১৬ ম্যাচে মাত্র ৭ জয়। স্লো ওভার রেটের কারণে পয়েন্ট কর্তন তাদের পিছিয়ে দিয়েছে।
বাকি ম্যাচ: ৫টি টেস্ট (সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ)।
ফাইনালে ওঠার সমীকরণ: বাকি সবকটি (৫টি) টেস্ট জিতলেও তাদের পিসিটি ৬০% পার হবে না। ফলে অলৌকিক কোনো অঘটন ছাড়া তাদের ফাইনালের দরজা প্রায় বন্ধ।
📉 তলানির তিন দল (শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান)
শ্রীলঙ্কা (৩৩.৩৩%), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০.৮৩%) ও পাকিস্তান (১৪.৮১%): বাকি সব ম্যাচ জিতলেও গাণিতিকভাবে এদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫% এরও নিচে। পাকিস্তান তো পয়েন্ট কর্তন ও ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দৌড় থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে।
