আদালতের কোনো রায় বা আদেশের প্রতিবাদে ডাকা যেকোনো ধরনের ধর্মঘট বা হরতালকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে পরিবহন মালিক সমিতি বা শ্রমিক সংগঠনগুলো এ ধরনের কর্মসূচি ডাকলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
২০১৭ সালে জারি করা একটি রুলকে চূড়ান্ত ঘোষণা করে আজ রোববার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ও নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ, বিআরটিসিকে ধর্মঘট ও হরতাল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
চিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদ, প্রখ্যাত সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় এক বাসচালককে আদালত সাজা দেওয়ার পর পরিবহন মালিকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। এরপর মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।
ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে রুলটি জারি করেছিলেন।
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
মামলায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই বাসচালককে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেন।
রায়ের পর পরিবহন মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দিলে এইচআরপিবি জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করে।
২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত পরিবহন মালিকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন। এই আদেশের পরদিনই পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাজে সহযোগিতা করা সব কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, রায়ে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষের আপিল করার আইনি অধিকার থাকলেও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকা বিচারিক আদেশের প্রতি অমান্যতা প্রদর্শন এবং তা অসংবিধানিক। এ ধরনের ধর্মঘট নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে এবং জনগণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ বাড়ায়।
আজকের রায়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় ও আদেশ সবার ওপর বাধ্যবাধকতামূলক।
আদালত বলেন, সংক্ষুব্ধ পক্ষগুলোর উপযুক্ত আপিল ফোরামে রায় চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থাকলেও বিচারিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতালের পথ বেছে নেওয়া বেআইনি এবং সংবিধান পরিপন্থী।
এইচআরপিবির পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম রিট পিটিশনটি দায়ের করেছিলেন।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবিব, বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিফুল হক এবং বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. রফিউল ইসলাম।
