ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই শিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রাম থেকে গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সরাইল থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম তালুকদার দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক তরুণ নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন স্থানীয় রাকিব মিয়া (২২)। তিন নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা অগ্রিম দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ওই তরুণ এক কিশোরী (১৬) ও এক তরুণীকে (১৯) নিয়ে সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান। পরে রাকিবসহ দুই যুবক তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তাদের তিতাস নদীর শাহবাজপুর এলাকায় নেওয়া হয়। নৌকায় আরও তিন যুবক ছিলেন।
একপর্যায়ে নদীর মাঝখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন পাঁচ যুবক। পরে তরুণ শিল্পীকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তার সঙ্গে থাকা দুই নারী শিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ৮টার দিকে তিন শিল্পীকে তিতাস নদীর নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানিতে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা নৌকা নিয়ে চলে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে চান্দিনা এলাকার এক নারী সরাইল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, এ ধরনের ঘটনা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তাদের পেশাগত অধিকার ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কারণে যেন অভিযুক্তদের কেউ আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয় ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে হবে।
