ইউএস ওপেনের চকচকে ট্রফিটা হাতে নিয়ে আলেকজান্ডার জভেরেভ যেন নিমেষেই ফিরে গেলেন ২৪ বছর আগের এক স্মৃতিতে। চার বছরের এক শিশুর রক্তে ডায়াবেটিসের দুঃসংবাদ শুনে চিকিৎসকেরা সেদিন জানিয়ে দিয়েছিলেন—এই ছেলের জীবনের দৌড় খুব সীমিত। কিন্তু সেই অন্ধকার দিনে এক মা হার মানেননি। সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে অদম্য সাহসে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে।’
সেই বিশ্বাস আর লড়াইয়ের ফসল আজকের এই মহা সাফল্য। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে বিশ্বের শীর্ষ বাছাই জভেরেভ তার এই ঐতিহাসিক অর্জন সঁপে দিলেন মায়ের হাতেই।
ফ্লাশিং মেডোজে সোমবারের ফাইনালে আমেরিকার বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬(২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট পরেন এই জার্মান তারকা। একসময় বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফেরার আক্ষেপ থাকলেও, গত তিন মাসে দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে সব সমালোচনার উত্তর দিলেন তিনি।
জয়ের পরপরই আবেগাপ্লুত জভেরেভ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তার মা ইরিনা জভেরেভকে। সাবেক এই পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় শুরু থেকেই আগলে রেখেছেন ছেলেকে, কোনোদিন টাইপ-১ ডায়াবেটিসকে জভেরেভের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি।
আবেগ সামলে জভেরেভ বলেন, ‘মাত্র চার বছর বয়সে যখন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, চিকিৎসকেরা সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছিলেন—এই ছেলের খেলাধুলা বা স্বাভাবিক জীবন খুব বেশি দূর এগোবে না। সেদিন যদি আমার মা শক্ত হয়ে না দাঁড়াতেন, তবে আজ আমি এই ট্রফি ছুঁতে পারতাম না। মা সেদিন স্পষ্ট বলেছিলেন, “সে টেনিস খেলতে চাইলে টেনিসই খেলবে, অন্য কিছু করতে চাইলে তা-ই করবে। কিন্তু এই ব্যাধি আমাদের থামিয়ে দিতে পারবে না।”’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ আমরা যে অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি, তা মায়ের সেই অটল বিশ্বাসের ফসল। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে সাহসী ও শক্তিশালী মানুষটি আমার মা।’
টোকিও অলিম্পিকে সোনাজয়ী ২৯ বছর বয়সী এই তারকা তার পুরো দলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যেখানে কোচ হিসেবে আছেন তার বাবা আলেকজান্ডার জভেরেভ সিনিয়র এবং বড় ভাই মিশা জভেরেভ।
নিজের এই সাফল্যযাত্রাকে ঐশ্বরিক কৃপা উল্লেখ করে জভেরেভ বলেন, ‘আমাদের পরিবারে প্রায় ৩০ বছর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি আসেনি। আর আজ তিন মাসের ব্যবধানে দুটি বড় শিরোপা উঠে এলো আমাদের হাতে! আমার বিশ্বাস, আমরা কতটা কষ্ট করেছি, কতটা ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি—সৃষ্টিকর্তা তা দেখেছেন। অতীতের সেইসব ঘাম আর অশ্রুর ফল পেলাম এই বছরে এসে।’
