তথ্য গোপন ও প্রতারণা ঠেকাতে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য সংযুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গত ২৫ আগস্ট জনস্বার্থে এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত রুল জারি করেন।
রিটে কাবিননামা সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। সেখানে বর-কনের জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বরের পাশাপাশি ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং আগের সম্পর্ক থেকে তৈরি হওয়া অন্যান্য আইনগত দায়দায়িত্বের তথ্য যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১, যা সাধারণভাবে ‘ফরম ঘ’ বা কাবিননামা নামে পরিচিত, সেখানে বর-কনে দুজনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও বিচ্ছেদের নিবন্ধন, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে তৈরি হওয়া ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের মতো চলমান আইনগত দায়দায়িত্বের তথ্য জানানো ও যাচাই করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে তবে বরের সব আগের বিয়ে, বিচ্ছেদ, সাবেক স্ত্রী এবং সন্তানদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
একইভাবে কনের আগের বিয়ে বা বৈবাহিক সম্পর্কের ইতিহাস যাচাই করারও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
রিটে বলা হয়, এ ধরনের তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতা না থাকায় পরবর্তী বিয়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে কেউ বিয়ে করতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব তথ্য জেনে নিজের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এ ধরনের তথ্য গোপন করার কারণে বর্তমান বা সাবেক স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকার ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রিটে কাবিননামা সংশোধনের জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে বর ও কনে দুজনকেই তাদের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য দিতে হয়।
এছাড়া আগের বা বিদ্যমান বিয়ে থেকে হওয়া সন্তানদের তথ্য, ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের চলমান দায়দায়িত্ব এবং অন্যান্য আইনগত দায়ের তথ্যও কাবিননামায় উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বরের মতো সরকারি পরিচয়পত্রের যাচাইযোগ্য তথ্যও কাবিননামায় যুক্ত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
