পঞ্চগড়ে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক আশীষ কুমার শীল দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ ডেইলি স্টারকে জানান, বিষপান করার পর ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকরা ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে একই উপজেলার ঝেচুপাড়া এলাকার সুয়েল ওরফে সোহেল (২৫) ও তার সহযোগী ইজিবাইকচালক রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টুকে (২৩) রোববার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক আশীষ কুমার জানান, ধর্ষণ ও সহযোগিতার অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করে রোববার মামলা করেন ওই স্কুলশিক্ষার্থীর ভাই।
অপর আসামি হলেন একই উপজেলার পূর্ববাগান রাজমহলের আবু সাঈদ।
এজাহারে বলা হয়, সোহেল এবং ওই স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সোহেল ইজিবাইকে করে মেয়েটিকে রাজমহল-পূর্ববাগান এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। পরে বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়ে রাত ২টার দিকে মেয়েটিকে আরেকটি ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় শনিবার মেয়েটি বিষপান করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরএমও রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, ‘মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশ পরিদর্শক বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, আজ বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
