গত কয়েক মাসে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ খেলেছে জাতীয় দল, দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর করেছে ‘এ’ দল ও ইমার্জিং দল আর হাই পারফরম্যান্স দল (এইচপি) খেলে এসেছে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
দেশের ক্রিকেট পুলের প্রায় ৬০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় যুক্ত ছিলেন এসব সিরিজে। তবে এই সবকটি দল মিলিয়ে একটি নাম বড় অনুপস্থিত ছিল— আকবর আলী।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটানোর পরও কোনো দলেই সুযোগ পাননি। রংপুর বিভাগের অধিনায়ক হিসেবে গত মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি ও চার দিনের ম্যাচ— উভয় ফরম্যাটেই দলকে শিরোপা এনে জিতিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এরপর কোনো সফরের দলেই জায়গা না পেয়ে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্লাব ক্রিকেট খেলে সময় কাটিয়েছেন। তবে তার এভাবে বাদ পড়াটা ক্রিকেট অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনসিএলের অধিনায়কদের প্রথম শ্রেণির ‘ব্যাগি ক্যাপ’ হস্তান্তর করেছে। এই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আকবর। সব দল থেকেই বাদ পড়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করলেও এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র দেখছেন না ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
আকবর বলেছেন, ‘আমি প্রথমত কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিকে যেতে চাই না। এটা একদম সৎ উত্তর। দ্বিতীয়ত, চারটা-পাঁচটা দলে আমি ছিলাম না। ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই আমার খারাপ লেগেছে এবং আমার মনে হয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে খারাপ লাগা উচিতও।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘নির্বাচকদের সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছিল যে, তারা আমার মধ্যে আরও কী উন্নতি চায়। তো একটা ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। তবে আবারও বলছি, ব্যক্তিগতভাবে খারাপ লেগেছে। কিন্তু আমি এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছি।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের দলগুলোতে প্রচুর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই বিবেচনায় আকবরের অনুপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে দলে জায়গা প্রাপ্য ছিল— এমন কোনো দাবি করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন তিনি।
আকবর বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমি থাকতে পারতাম। কিন্তু এটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। এখানে আসলে আমার কিছু করার নেই। আমার হাতে যেটা আছে— সামনে যে খেলাগুলো আছে সেগুলোতে ভালো করা এবং আমার নামটা ওখানে আবার আলোচনার টেবিলে আনা।’
প্রয়োজন হলে নিজের ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন আনতেও প্রস্তুত আকবর। সাধারণত লোয়ার-অর্ডারে ব্যাটিং করলেও তার বিশ্বাস, ওপরের দিকে ব্যাট করাটা তাকে নজরে পড়ার ক্ষেত্রে সুযোগ এনে দিতে পারে।
তিনি বলেছেন, ‘চেষ্টা করব পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার জন্য। আমার কোনো সমস্যা নেই।’
