আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসে অভিযান শুরু করছে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেই লক্ষ্যে গত রবিবারই জাপানের এআইচি-নাগোয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে দল। তবে টোকিওর বিমান ধরার ঠিক আগমুহূর্তে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয় একটি খবরে। গুঞ্জন ওঠে, মহাদেশীয় এই মঞ্চে নামার আগে নাকি নিজের সঠিক মাপের পোশাকই পাননি বেশ কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার!
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ক্রিকেটারদের পোশাকের মাপ নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (আইওএ) কিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেএসডব্লিউ ইন্সপায়ার’-এর মধ্যে চরম টানাপোড়েন চলেছে।
তবে পুরো বিষয়টিকেই স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে জেএসডব্লিউ ইন্সপায়ার। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, অনেক আগেই পুরুষ ও নারী—দুই দলের হাতেই অফিশিয়াল পোশাক তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘একদম স্পষ্ট করে বলছি, দুই ক্রিকেট দলের ম্যানেজারদের কাছে নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই পোশাক পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক আছে এবং কোনো সমস্যা নেই বলে তারা আমাদের নিশ্চিতও করেছেন। ২৬ সেপ্টেম্বর টোকিও থেকে নাগোয়া যাওয়ার পথে দল আমাদের পোশাক পরেই ভ্রমণ করবে। এশিয়ান গেমসের মান বজায় রাখতে আমরা দায়বদ্ধ।’
উল্লেখ্য, মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ভারতীয় দল, যেখানে অন্য একটি জার্সি পরে মাঠে নামবেন ক্রিকেটাররা।
এদিকে গত শনিবার জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে এবারের এশিয়ান গেমসের। উদ্বোধনী কুচকাওয়াজে ভারতের পতাকা বহনের কথা ছিল শুটার মানু ভাকের ও শট পুটার তাজিন্দরপাল সিং তুরের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তুরের জায়গায় কবাডি তারকা পবন সেহরাওয়াতকে পতাকাবাহী করা হয়।
আইওএ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘কারিগরি জটিলতার কারণে তাজিন্দরপাল সিং তুর পতাকা বহন করতে পারছেন না। তার বদলে পবন সেহরাওয়াত এই দায়িত্ব সামলাবেন।’ তবে বেশ কিছু গণমাধ্যমের দাবি, সময়মতো মার্চপাস্টের অফিশিয়াল পোশাক না পাওয়াতেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি তুর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পোশাক নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে জেএসডব্লিউ। মুখপাত্র বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এই পোশাক না পাওয়ার দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরি বা বিতরণের কোনো দায়িত্ব জেএসডব্লিউ ইন্সপায়ারের ছিল না। আমাদের দায়িত্ব ছিল খেলার পোশাক বা পারফরম্যান্স কিট সরবরাহ করা, যা আমরা সময়মতোই সংশ্লিষ্ট সব ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
