ভরা মৌসুমেও বরিশালের বাজারে নেই নদীর ইলিশ, সাগরের মাছেই ভরসা

ভরা মৌসুম চললেও বরিশাল বিভাগের বড় মাছের বাজার ও অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বর্তমানে বাজারে আসা ইলিশের বেশিরভাগই সাগর থেকে ধরা।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ৪০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের আধিক্য রয়েছে। তুলনামূলক বড় ও পরিণত ইলিশের সরবরাহ কম।

আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারি মাছের বাজারে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ইলিশ এসেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এক মণ সমান প্রায় ৩৭ দশমিক ৩২ কেজি।

গত মাসের একই সময়ের তুলনায় এ সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ হলেও গত বছরের তুলনায় তা অনেক কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের একই সময়ে এই বাজারে ১ হাজার মণের বেশি ইলিশ এসেছিল।

এই বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, বাজারে আসা ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশই সাগর থেকে ধরা—যার বেশির ভাগই আকারে ছোট। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে আহরিত কিছু ইলিশ আসছে, তবে এর পরিমাণ খুবই কম।

মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ইলিশ ব্যবসায়ী রাকিবুল জানান, গত বছরের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। তবে গত কয়েক দিনে জেলেরা সাগরে আগের চেয়ে বেশি ইলিশ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে পরিণত মা ইলিশ খুবই কম।’

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে তার কেন্দ্রে ১১ হাজার ৫৫৬ কেজি ইলিশের হিসাব পাওয়া গিয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ১১ হাজার ৪৬ কেজি। যা প্রায় পাঁচ শতাংশ কম।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গত এক মাসে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ কেজি ইলিশ আসছে।

বরিশালের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল হাসান বলেন, ‘ভৌগোলিক পরিবর্তন, দূষণ, নাব্যতা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ইলিশের সরবরাহ কমে গেছে।’

ভারতের গুজরাটের ইলিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশালের বাজারে এ মাছের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

‘তবে আমরা জানতে পেরেছি, সীমান্তবর্তী ও উত্তরাঞ্চলের বাজারগুলোতে এই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে টানা তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৩ লাখ ৩৪ হাজার টনে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও কমে ২ লাখ ৬৬ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল বিভাগে ৪৬টি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও এক হাজারের বেশি মাছের বাজার রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারগুলোতে নদীতে ধরা ইলিশের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।

বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাগরভিত্তিক অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে কিছু ইলিশ এলেও আগের বছরগুলোর তুলনায় সেখানেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

Related Articles

Latest Posts