আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: আরও ৫ মরদেহ উদ্ধার, মোট মৃত্যু ৭

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার সামনে গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে আরও পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যার এ বিস্ফোরণের ঘটনায় এর আগে ঘটনাস্থলে এক নারী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি মারা যান। এ নিয়ে ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সীমানার ভেতরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী লরিতে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে কারখানার কম্পাউন্ডে থাকা কয়েকটি কাভার্ড ভ্যানও পুড়ে যায়।

মৃত জয়নব বেগম (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। আর ঢাকা মেডিকেলে মারা যাওয়া নজরুল ইসলাম (৩০) কারখানাটির সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করতেন। উদ্ধার হওয়া পাঁচ জনের মরদেহের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলোতে তল্লাশির সময় একটি গাড়ি থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। মরদেহগুলো নারী না পুরুষ, তা বোঝার উপায় নেই। ফায়ার সার্ভিস এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডে প্রীতি গ্রুপের অন্তত ২০টি গাড়ি পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল মারা গেছেন। দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

মৃত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম বলেন, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। তারা বর্তমানে আশুলিয়ার শিমুলতলায় থাকেন। তার বাবা ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে তাকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জয়নবের মেয়ে সানজিদা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন। তার মা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে একটি সিলিন্ডার এসে মায়ের মাথায় পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বিস্ফোরণে আহত আরও তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫) এবং গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক নুর ইসলাম (৩০)।

আহত মুখলেস বলেন, বিস্ফোরণের পর লোহার বিভিন্ন জিনিস, ইটপাটকেল ও কাচ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সুজনের মাথায় এবং তার নিজের হাত-পায়ে আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

আহত নুর ইসলামের ভাগ্নে মো. মাসুদ জানান, নুরের বাড়ি বাগেরহাটে। তিনি ভোলায় থাকতেন এবং গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালাতেন। বিস্ফোরণে তার সারা শরীর পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খবর পেয়ে ডিইপিজেড ও জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

‘কারখানার সামনে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী বিশেষ লরিতে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি,’ বলেন হাফিজুর।

এদিকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধসহ অন্তত ১৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আহতদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন জানান, কারখানার সীমানাপ্রাচীরের একটি কোণায় আগুনের ঘটনা ঘটে। ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই।

Related Articles

Latest Posts