মেসির সঙ্গে শেষবারের মতো একটি ছবি, সুযোগ পেলে সেটিই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিতে চান আর্জেন্টিনার তরুণ ডিফেন্ডার আগুস্তিন জিয়ায়ে। কিংবদন্তি অধিনায়ককে বিদায় জানানোর সময় যত ঘনিয়ে আসছে, আর্জেন্টিনা শিবিরে ততই স্পষ্ট হচ্ছে আবেগের ছাপ। মেসির সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরেই যেন তাঁর শেষ অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন সতীর্থরা।
আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটিই জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ উপস্থিতি হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য স্কালোনির দলে থাকা খেলোয়াড়েরা যোগ দিতে শুরু করেছেন। আর মেসির বিদায়কে ঘিরে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিশেষ এক অনুভূতি।
মেসিকে কোনোভাবেই বিরক্ত করতে চান না জিয়ায়ে। তবে সুযোগ পেলে প্রিয় অধিনায়কের সঙ্গে শেষবারের মতো একটি ছবি তুলে রাখতে চান পালমেইরাসের এই ডিফেন্ডার। ২২ বছর বয়সী জিয়ায়ে বলেছেন, ‘আমি তাকে বিরক্ত করতে চাই না। তবে সুযোগ পেলে তার সঙ্গে শেষ একটি ছবি তুলতে চাইব।’
মেসির বিদায়ের মুহূর্তটি যে আবেগঘন হবে, সেটিও স্বীকার করেছেন জিয়ায়ে। তার ভাষায়, ‘এটা একটু দুঃখের। তবে অবশ্যই আমরা এটাকে অনেক উপভোগ করব।’
আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধি জিয়ায়ে এখন জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নিজের জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আছেন। নাহুয়েল মোলিনার নিষেধাজ্ঞার কারণে ডানপাশের রক্ষণে জিয়ায়ে ও হুয়ান ফয়েথকে সুযোগ দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সান লরেঞ্জোর একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার এর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি দলেও ছিলেন। এবার সিনিয়র দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আরেকটি সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
তবে তরুণেরা যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছেন, দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা তখন প্রস্তুত হচ্ছেন এমন একজনকে বিদায় জানানোর, যার সঙ্গে তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর অনেকটাই জড়িয়ে আছে।
ভ্যালেন্তিন বারকোও মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনাকে ভাবাটা কতটা কঠিন, সেটি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সবাই খুব উচ্ছ্বসিত এবং আশা করছি, তার বিদায়কে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারব। মেসিকে ছাড়া জাতীয় দলকে কেউ কল্পনাই করতে পারে না। সে বিশাল এক শূন্যতা রেখে যাবে, যা পূরণ করা অসম্ভব।’
নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও মেনে নিয়েছেন, মেসির বিদায় এখন বাস্তবতা। তার ভাষায়, ‘আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। সামনে যা আসছে, তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং জাতীয় দল হিসেবে নিজেদের আরও উন্নত করতে হবে। সেরা খেলোয়াড়টির সঙ্গে ২০ বছর কেটে গেছে। এটা কঠিন হবে, কিন্তু আমাদের মেনে নিতেই হবে।’
মেসির সঙ্গে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটাও যেন দেখতে পাচ্ছেন তাগলিয়াফিকো, ‘আমিও শেষ পর্যায়ে আছি। যতটা সম্ভব উপভোগ করার চেষ্টা করছি।’
মেসির প্রসঙ্গে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ফাকুন্দো মেদিনাও, ‘আমি দুঃখিত। সে আমাদের অনেক আনন্দ দিয়েছে, আমাদের সবকিছু দিয়েছে। সে একজন মানুষ এবং তার সিদ্ধান্তকে আমাদের সম্মান করতে হবে। তাকে সম্ভাব্য সেরা উপায়ে বিদায় জানাতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে উপভোগ করতে দিতে হবে। সে সবার জন্য একজন উদাহরণ। তার মহত্ত্ব থেকে আমাদের শিখতে হবে।’
এজেকিয়েল পালাসিওসের কণ্ঠেও ছিল একই সুর, ‘লিও বিশাল এক শূন্যতা রেখে যাবে। সে আমাদের অধিনায়ক, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তাকে বিদায় জানানোর জন্য এই সপ্তাহটা আমরা উপভোগ করব।’
মেসিকে বিদায় জানানোর আগে আর্জেন্টিনার সামনে আরও দুটি ম্যাচ আছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে খেলবে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে।
তারপর সেই রাত, যে রাতটির অপেক্ষায় এখন পুরো আর্জেন্টিনা। ৬ অক্টোবর মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো দেখা যাবে মেসিকে।
