বিশ্বজুড়ে চলমান নানা সংঘাতের মধ্যে আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার পর দ্বিতীয় বিশ্বনেতা হিসেবে বক্তব্য রাখছেন ট্রাম্প।
বার্তাসংস্থা এএফপি ও সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ইরান, জ্বালানি সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, গ্রিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভাষণে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করায় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘এখন চাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমাদের একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহনে পাহারা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি তেল এই পথ দিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপরই ইরান বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কী এমন চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে তারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী একটি দেশে পরিণত হবে—যেটি হবে মধ্যপ্রাচ্য বা এমনকি বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ? নাকি আমি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেব?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কি তাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দেব, যেখান থেকে তাদের ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনো আশাও থাকবে না?’
তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। কারণ, তাদের জন্য চুক্তি না করার কোনো যুক্তি নেই।’
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে গেছে—এমন তথ্য নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যত অস্ত্র আছে, তার সবটুকু ব্যবহার করার কথাও আমরা সম্ভবত কখনো ভাবতে পারব না।’
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা উপযুক্ত স্থানে দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করব।’
