রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার ৮ নম্বর শিশু আদালতের বিচারক মো. আবদুল মুক্তাদির এ আদেশ দেন।
বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতে ছেলেটির জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন।
আদালতের এক উপপরিদর্শক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার তার বড় ভাই মুক্তাদির ইসলাম (২৮) এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
দুর্ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে ওই কিশোরকে দেখা গেলেও, মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তবে, এজাহারে ওই গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারাকের (৪৪) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক বলে জানা গেছে।
ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর একটি ল্যাম্পপোস্টে সজোরে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। গাড়ির ডান পাশের দরজা দিয়ে চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর বেরিয়ে আসে। আর অন্য পাশ দিয়ে শার্ট পরা মধ্যবয়সী একজন বের হন।
মামলায় ওই কিশোরের নাম না থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ জানায়, তাকে আটক রাখা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক এসআই আরেফিন ইসলাম আজ কিশোরকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেন।
এদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, ৯ লাখ টাকায় মামলার বিষয়টি আপস হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন এবং চাপা দেওয়া গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
মামলার বাদী মুক্তাদির ও আসামির বড় ভাই আয়াজ আলী শরীফের সই করা একটি আপসনামার কপি পেয়েছে দ্য ডেইলি স্টার। তবে এতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।
আপসনামার বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আকাশ মারাক চালাচ্ছিলেন এবং কিশোরটি গাড়ির ভেতরে যাত্রী হিসেবে ছিল।
এতে আরও বলা হয়, নিহতের দাফন, কাফন ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য মেহেদীর পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নগদ আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী আলমগীর বলেন, আত্মীয়স্বজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নিহতের পরিবার মোট ৯ লাখ টাকা নিয়ে আপসনামায় সই করেছে।
জামিন শুনানির সময় এই আপসনামা আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
বাদী মুক্তাদির সত্যিই এই আপসে সম্মত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তার ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের ফরোয়ার্ডিং রিপোর্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
রিপোর্টে বলা হয়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই ওই কিশোর গাড়ির ডান পাশের চালকের আসনের দরজা খুলে বের হয়ে এসেছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্তকালে দুর্ঘটনার সঙ্গে ওই কিশোরের সরাসরি জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
