যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান বুঝে পেয়েছে তাইওয়ান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে, চীনের আপত্তির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ১৪ বিলিয়ন ডলারের আলাদা একটি অস্ত্র সহায়তার প্রস্তাব স্থগিত করে রেখেছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে তাইওয়ান।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে। দেশটি প্রয়োজনে তাদের বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান আজ শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায় বলে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
হাওয়াই ও গুয়ামে রিফুয়েলিংয়ের জন্য থেমে জেটগুলো সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে পৌঁছানোর কথা ছিল।
কিন্তু স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গুয়ামের পথে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিমানগুলো হঠাৎ হাওয়াই ফিরে যায়। কেন এমন হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিমানগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত আগমন দেখতে বহু স্থানীয় মানুষ দূরবীন ও বড় লেন্সের ক্যামেরা নিয়ে বিমানঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের কাছে ভিড় জমান।
তাইচুং শহরের বাসিন্দা কিমি চি নামের এক বিক্রয়কর্মী বিমানগুলো ল্যান্ডিংয়ের ছবি তুলতে সারারাত ভ্রমণ করে তাইতুংয়ে যান।
দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে বেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে ৩৭ বছর বয়সী কিমি বলেন, ‘ভালো কিছুর জন্য কিছুটা অপেক্ষা করতেই হয়।’
তিনি এএফপিকে বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি অবশ্যই আমাদের শক্তি বাড়াবে। তবে বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো প্রশিক্ষিত পাইলট। তাই সরকার সামরিক পাইলটদের জন্য আরও ভালো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
তাইওয়ানের বিমানবাহিনীর সাবেক সদস্য ৫৭ বছর বয়সী এরিক চ্যান এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তাদের দিক থেকে হুমকি সবসময় ছিল, তাই আমাদের নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।’
এফ-১৬ভি হলো চতুর্থ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা তাইওয়ানের পুরোনো এফ-১৬ এ/বি মডেলের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও শক্তিশালী।
তাইপের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের সামরিক বিশেষজ্ঞ সু জু-ইউন বলেন, উন্নত যুদ্ধকৌশল, রাডার ব্যবস্থা ও শক্তিশালী ইঞ্জিনের অধিকারী এফ-১৬ভি তাইওয়ানের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়াটা চীনের সামরিক হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন।
তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সহযোগী ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সরবরাহের জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলো পেতে দেরি হচ্ছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু এর আগে বলেছিলেন, লকহিড মার্টিন উৎপাদন বাড়ালেও এ বছরের মধ্যে সবকটি এফ-১৬ভি বুঝে পাওয়াটা ‘চ্যালেঞ্জিং’ হবে।
তবে শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও কয়েকটি এফ-১৬ভি তাইওয়ানে পৌঁছাবে। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
তাইপের ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার প্রস্তাবটি আটকে রেখেছেন ট্রাম্প। মে মাসে তিনি বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য এটি একটি ‘বড় হাতিয়ার’।
এতে তাইওয়ানের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে অনেকে ভয় পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনের আগে এই অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের সম্ভাবনা কম। ওই সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, চীনের ক্ষোভ কমাতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমসহ এই পুরো অস্ত্র প্যাকেজটিকে ছোট ছোট ভাগে সরবরাহ করা হতে পারে।
