পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে গিয়েও জাপানে এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর খর্বশক্তির শ্রীলঙ্কার কাছে ধরাশায়ী হয়ে ব্রোঞ্জও জোটেনি তাদের। ব্যাটে-বলে হতশ্রী পারফরম্যান্সে এমন অসহায় আত্মসমর্পণের পর টাইগারদের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জর্জরিত হলেন গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নবাণে।
শনিবার সকালে নিশিনে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। নিয়মিত তারকাদের বেশিরভাগকে বিশ্রাম দিয়ে এশিয়ান গেমসে যাওয়া লঙ্কানরা টস জিতে আগে ব্যাট করে তোলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান। জবাবে প্রথম সারির দল নিয়েও টাইগাররা ১৫ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় মাত্র ১০২ রানে। অথচ আসর শুরুর আগে সোনা জয়ের প্রত্যাশা জানিয়েছিল তারা।
২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেবার সোনা জেতার পর গত দুই আসরে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এবার ভরাডুবির পর কোচের দায়িত্ব নিয়ে জাপানে যাওয়া সালাহউদ্দিন দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা জাতির কাছে আসলে খুবই লজ্জিত। কোচ হিসেবে আমি মনে করি যে, আমরা ব্যর্থ হয়েছি এবং সেই সাথে আমরা যেটা প্রত্যাশা করছিলাম, সেখানে কিছুই করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং আমি মনে করি যে, পুরা জাতির কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
আসরজুড়ে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বাংলাদেশ ছিল মলিন। সেটা অকপটে স্বীকার করলেও খেলোয়াড়দের তাড়নায় কোনো ঘাটতি দেখেন না সালাহউদ্দিন, ‘খেলোয়াড়রা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার মনে হয় যে, আমরা গেম প্ল্যান ঠিকমতো আসলে প্রয়োগ করতে পারিনি। আমাদের মূল বোলাররাই এই উইকেটে যেরকম আশা করেছিলাম, সেভাবে বল করতে পারেনি। তবে স্পিনাররা খুবই ভালো বল করেছে। ব্যাটিংয়েও আমার মনে হয় যে, খুব তাড়াহুড়ো করেছি। আজকে প্রথমেই পাওয়ার প্লেতে যখন ৫টা-৬টা (মূলত ৪টা) উইকেট পড়ে যায়, তখন ওখান থেকে ম্যাচ বের করাটা খুব কঠিন। কারণ অন্যান্য দলের মতো আমাদের আসলে খুব বেশি অলরাউন্ডার নাই।’
তিনি যোগ করেন, ‘তো যেটা আপনারা বললেন যে, খেলোয়াড়দের ইচ্ছাশক্তি বা ভালো খেলার ইচ্ছা নাই, এটা আসলে ভুল কথা।’
লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয় ভীষণ বাজে। প্রথম ওভারে সাইফ হাসান ও দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান তামিম সাজঘরে ফিরে যান। তখনও স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হয়নি! তিনে নামা অধিনায়ক লিটন দাস পরের ওভারে হাঁটেন একই পথে। প্রথম বলেই আউট হয়ে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান তিনি। বাংলাদেশের জার্সিতে দুঃসময় পার করতে থাকা লিটনের এটি সবশেষ পাঁচ ইনিংসে চতুর্থ ডাক। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রানে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি।
৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর বিপর্যয় আর সামলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। শেষদিকে নাসুম আহমেদ প্রতিরোধ না গড়লে একশর নিচেই গুটিয়ে যেতে পারত তারা। নয়ে নামা নাসুম সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন ২৮ বল খেলে।
এর আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশের তৈরি করা চাপ আলগা করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতোই তিনি ছিলেন খরুচে ও এলোমেলো। এই বাঁহাতি পেসার যখন বোলিংয়ে যান, তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৬৫ রান। ওই ওভারে ২৫ রান দিয়ে ফেলেন মোস্তাফিজ। ওভারটি শেষ করতে ওয়াইড-নোসহ মোট ১১টি ডেলিভারি দরকার পড়ে তার! ১৪ থেকে ১৮— এই পাঁচ ওভারে ৮৩ রান তুলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
মোস্তাফিজের বেহাল দশা নিয়ে বাংলাদেশের কোচের ভাষ্য, ‘সারাজীবন মোস্তাফিজ আমাদের ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট। তার ওপর আমাদের এখনো বিশ্বাস আছে। সে যদি আরও ব্যর্থ হয়, তবুও আমরা হয়তো তাকে সেভাবেই সমর্থন করে যাব।’
ব্যাট হাতে বিবর্ণ লিটনের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে মোস্তাফিজের মতো তার পাশেও দাঁড়ান সালাহউদ্দিন, ‘আমি সবসময় বলব যে, তারা দেশের জন্য সব সময় লড়াই করে। তারা ব্যর্থ হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত এবং আমরা এটা থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আমরা চেষ্টা করব। তবে সত্যি বলতে, আমরা দল হিসেবে আমরা ভালো পারফর্ম করিনি।’
