রাঙ্গামাটিতে এলপিজি সংকট, ৪ ফিলিং স্টেশনের ৩টি বন্ধ

এলপিজি গ্যাস সংকটে রাঙ্গামাটি শহরে স্থবির হয়ে পড়েছে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকরা।

শহরে চারটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

আজ শনিবার বিকালে শহরের বনরুপা এলাকার মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনে সরজমিনে দেখা যায়, পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

চালক মো. শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি সকাল ১১টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখনো গ্যাস পাইনি। কখন সিরিয়াল আসবে তাও জানি না।’

আরেক চালক সজল বড়ুয়া বলেন, ‘দুপুর ১২টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু সিরিয়াল সামনে এগুচ্ছে না। অন্য কোনো ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই, তাই বাধ্য হয়ে সবাই এখানে ভিড় করেছেন।’

মো. আলিম নামে এক চালক বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল ৪টায় মাত্র চারশ টাকার গ্যাস পেয়েছি। সারাদিন লাইনে কেটে গেছে, এখন গাড়ি চালানোর মতো সময় আর নেই।’

রাঙ্গামাটি জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান (বাবু) বলেন, ‘মাত্র একটা স্টেশন থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তাও খুব সীমিত।’

বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এখন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার অপেক্ষায়।’

শহরের চারটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সচল থাকা হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. মহসিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার আমরা সাত হাজার ২০০ লিটার গ্যাস পেয়েছি। শহরের বাকি পাম্পগুলোতে গ্যাস না থাকায় আমাদের এখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতিটি অটোরিকশায় ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টার পর প্রতিটি অটোরিকশায় ৪০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে গ্যাস সংকটে ফিলিং স্টেশন বন্ধ রেখেছেন বলে জানান শহরের ভেদভেদি এলাকার মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটো গ্যাস ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দাস।

তিনি বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের পাম্পে গ্যাস নেই। ফলে বাধ্য হয়ে স্টেশনটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। কবে গ্যাস পাবো তাও বলা যাচ্ছে না।’

শহরের অপর ফিলিং স্টেশন মানিকছড়ি আলাদিন এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনে সংকট চলছে গত এক সপ্তাহ ধরে।

এ স্টেশনের অপারেটর সোহেল ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের পাম্পে এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস নেই। কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেও লাভ হচ্ছে না। তাই পাম্প আপাতত বন্ধ রেখেছি।’

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘কিছু পাম্প গত ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে গ্যাস আনতে পারেনি। আরেকটি পাম্পে মেশিন নষ্ট হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। আপাতত একটা পাম্পে গ্যাস সরবরাহ সচল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই পাম্পে চাপ বেশি পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

Related Articles

Latest Posts