পর্তুগাল শিবির ছেড়ে হঠাৎ চলে যাওয়ার পর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, আপাতত সেটি আরও বড় কোনো সংঘাতে রূপ নিচ্ছে না। বরং জাতীয় দলে ফেরার দরজা তার জন্য খোলাই রাখছেন কোচ জর্জ জেসুস। রোনালদো চাইলে আগামী নভেম্বরে আবারও পর্তুগালের জার্সিতে ফিরতে পারবেন, তবে সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি তার নিজের।
রোববার নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে নেশন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। সেই ম্যাচেও ছিলেন না রোনালদো। এর আগে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে একাদশে রাখা হবে না জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
তবে জেসুসের বক্তব্যে পরিষ্কার, সেই ঘটনা রোনালদোর জাতীয় দলের ভবিষ্যতের দরজা বন্ধ করে দেয়নি। পর্তুগালের কোচ বলেছেন, ‘পরবর্তী দলে ডাক পাওয়ার সময় ক্রিস যদি আল-নাসরে খেলেন, তাহলে তিনি এমন একজন খেলোয়াড় থাকবেন, যাকে দলে ডাকা যেতে পারে। তিনি যদি চান, তাহলে জাতীয় দলে ফিরবেন।’
নভেম্বরে পর্তুগালের সামনে রয়েছে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ। ১৪ নভেম্বর ঘরের মাঠে ডেনমার্কের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল, তিন দিন পর ওয়েলসের মাঠে খেলবে তারা। তার আগে রোনালদো চাইলে কোচের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও থাকছে বলে জানিয়েছেন জেসুস।
‘তিনি যদি চান, যেমন এই দলে আসার আগে আমরা কথা বলেছিলাম, তেমনই পরের দলে ডাক পাওয়ার আগেও কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে,’ বলেছেন পর্তুগাল কোচ।
রবার্তো মার্তিনেজের জায়গায় ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়া জেসুস জানালেন, শুরু থেকেই রোনালদোকে তিনি নিজের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখেছেন। প্রথমবার দল ঘোষণার সময়ও তাকে প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন কোচ।
‘ক্রিস্তিয়ানো জাতীয় দলে তার সময়টা যেভাবে শেষ করতে চান, সেভাবেই শেষ করা উচিত। তিনি নিজেই ঠিক করবেন, কীভাবে সেটা করতে চান। আমাদের প্রথম দলে ডাক দেওয়ার সময় আমি তাকে বলেছিলাম, “আমার তোমাকে প্রয়োজন। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছাকাছি প্রয়োজন।” এখনো আমি সেটাই বলছি,’ বলেন জেসুস।
পর্তুগালের হয়ে ২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। জাতীয় দলের হয়ে ১৪৩টির বেশি গোল করা এই তারকা পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। ছয়টি বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
তবে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা যে খুব বেশি দূরে নয়, সেটিও ইঙ্গিত দিয়েছেন রোনালদো। কিছু দিন আগেই তিনি বলেছেন, চলতি বছরই “সম্ভবত” তার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছর হতে পারে।
রোনালদোর অনুপস্থিতিতেও অবশ্য থেমে নেই পর্তুগাল। নরওয়েকে হারিয়ে তারাই প্রথম দল হিসেবে নেশন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে, যদিও গ্রুপ পর্বে তাদের আরও দুটি ম্যাচ বাকি।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসাও রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন, ‘সে তার যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাতীয় দলে আছে, আর সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্নই থাকা উচিত নয়। আমাদের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে সম্মান জানাতে হবে।’
