ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এখন কঠিন এক পরীক্ষা। মাঠের সাফল্য দিয়ে যে ক্লাবটি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ইংলিশ ফুটবলে নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে, সেই সাফল্য এবার আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশ্নের মুখে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের শতাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ক্লাবটির শাস্তি কী হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এর মধ্যেই সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্যারি লিনেকারের পরামর্শ, যে শাস্তিই হোক, ফুটবলের স্বার্থে নিজেদের ভুল স্বীকার করে তা মেনে নেওয়া উচিত সিটির।
গত সপ্তাহে একটি স্বাধীন কমিশন জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা নয় মৌসুমে নিজেদের আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং খরচ কম দেখানোর জন্য কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে ‘সাজানো’ চুক্তি করেছিল সিটি। ক্লাবটি অবশ্য শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। শুক্রবার তারা নিশ্চিত করেছে, কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে তারা।
এখনো সিটির জন্য কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় রয়েছে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা, জরিমানা, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকেই বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থাও।
এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে চেলসির স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আয়োজিত ‘লিডার্স উইক লন্ডন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে লিনেকার বলেন, সিটির এই ঘটনা শুধু ক্লাবটির ভাবমূর্তির জন্য নয়, পুরো ফুটবলের জন্যই বিব্রতকর। ‘অবশ্যই ম্যানচেস্টার সিটির জন্য বিষয়টি খুব খারাপ দেখাচ্ছে, আর খেলাটির জন্যও এটি ভালো কিছু নয়,’ বলেন লিনেকার।
প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই ইংলিশ তারকা, ‘আমি চাই, ম্যানচেস্টার সিটি এখন বিষয়টি মেনে নিয়ে বলুক, “ঠিক আছে, আমরা ভুল করেছি। কিন্তু খেলাটির স্বার্থে আমরা এটি মেনে নেব এবং যে শাস্তিই আমাদের সামনে আসুক, তা গ্রহণ করব। এরপর আমরা সামনে এগিয়ে যাব।”‘
তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত নিলে ক্লাবটির ভাবমূর্তিরও কিছুটা রক্ষা হতে পারে। তবে লিনেকার নিজেই মনে করেন, সিটি শেষ পর্যন্ত এমন পথে হাঁটবে, এমন সম্ভাবনা খুব বেশি নেই।
সিটির গত কয়েক বছরের সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের যে সময়কে ঘিরে অভিযোগ, সেই সময়ের জেতা তিনটি লিগ শিরোপা কেড়ে নেওয়া উচিত কি না, এমন প্রশ্নের মুখে লিনেকার বলেন, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সেদিকেও গড়ালে তিনি অবাক হবেন না। তবে তার মতে, এমন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ওপর।
সিটির হয়ে আট বছর খেলেছেন কাইল ওয়াকার। ২০২৫ সালে ক্লাব ছাড়ার আগে জিতেছেন একাধিক শিরোপা। সাবেক ক্লাবের অর্জন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে ওয়াকারও বলেছেন, যা-ই ঘটুক, সেই সাফল্যের স্মৃতি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে মুছে যাবে না।
টকস্পোর্টকে ওয়াকার বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে আমরা সম্ভবত কথা বলতে চাই না। কারণ আমরা চাই, মানুষ আমাদের শিরোপাগুলো জেতার কথা মনে রাখুক এবং সেগুলো সঠিকভাবেই জিতেছি, এমনটাই ভাবুক।’
তবে বিষয়টি যে কতটা কঠিন, সেটিও স্বীকার করেছেন ওয়াকার, ‘আমরা এগুলোর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। শুধু আমরা নই, আমি সেই সমর্থকদের কথাও ভাবি, যারা দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আমাদের সঙ্গে গেছেন। এমনকি ট্রেবল জয়ের সময় ইস্তাম্বুলেও গিয়েছিলেন তারা। সেই রাতটির আনন্দ পাওয়ার অধিকার তাদেরও ছিল।’
