মাঠের বাইরে চলছে তুমুল বিতর্ক। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের শতাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সম্ভাব্য শাস্তির খড়্গ ঝুলছে ক্লাবটির ওপর। তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না এনজো মারেসকা। বাইরের সমালোচনার জবাব কথায় নয়, মাঠে জয় দিয়েই জবাব দিতে চান তিনি।
স্বাধীন কমিশনের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রোববার প্রথমবার মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। সেটিও লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে, যেখানে শুরু থেকেই স্বাগতিক সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছে তাদের। তবে প্রতিকূল পরিবেশ সামলে ১০ জনের লিভারপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিটি। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধানও ফিরিয়ে এনেছে দলটি।
পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে সিটির দায়িত্ব নেওয়া মারেসকার শুরুটা হয়েছে নিখুঁত। তার অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম আট ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছে দল। তবে মাঠের এই সাফল্যের মধ্যেও ক্লাবটির শিরোপা অভিযানের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে স্বাধীন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ফলের ওপর।
অ্যানফিল্ডে জয়ের পর মারেসকা বলেন, ‘গত দুই-তিন সপ্তাহে যা ঘটেছে, তার পর খেলোয়াড়দের জন্য কাজটা সহজ ছিল না। তবে তারা পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে সামলেছে। সপ্তাহের মধ্যেই বলেছিলাম, বাইরের শোরগোল কীভাবে সামলাতে হয়, সেটা আমাদের শিখতে হবে। তবে একই সঙ্গে নিজেদেরও আওয়াজ তৈরি করতে হবে। আর সেটা হলো ম্যাচ জেতা। শেষ দিকে আমাদের সমর্থকেরা গান গাইছিলেন। তখন আওয়াজটা ছিল আমাদেরই।’
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনো দল। দ্বিতীয়ার্ধের ঘণ্টাখানেক পার হওয়ার সময় পরপর দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন লিভারপুলের রায়ান গ্রাভেনবার্খ। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিটি। এরপর মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে গোল করেন আর্লিং হলান্ড, জেরেমি ডকু ও রায়ান শেরকি।
২০০৩ সালের পর অ্যানফিল্ডের দর্শকপূর্ণ গ্যালারির সামনে এটি সিটির মাত্র দ্বিতীয় জয়। এমন সময়ে এই জয় পুরো ক্লাবের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মারেসকা, ‘অ্যানফিল্ডে ৩-০ গোলে জেতা অবশ্যই অসাধারণ ফল। এই মুহূর্তে পুরো ক্লাবের এমন একটি জয় প্রয়োজন ছিল। কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, ক্লাবের সবার জন্যই এটি ভালো। এ ধরনের জয় পুরো ক্লাবকে ইতিবাচক কিছু দেয়।’
তবে আর্থিক অনিয়মের মামলার সম্ভাব্য শাস্তিতে শেষ পর্যন্ত এই তিন পয়েন্টের মূল্য থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তা কি জয়ের আনন্দে ভাটা ফেলছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মারেসকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত এসব নিয়ে ভাবতে চান না তিনি।
‘আমি কতটা খুশি, সেটা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। আমার কাজ ম্যাচের জন্য দলকে প্রস্তুত করা এবং ম্যাচ জেতার চেষ্টা করা। আশা করি, আপিলে জেতার পর এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে পারব,’ বলেন সিটি কোচ।
