নেপালের মধ্যাঞ্চলে আবারও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪৫টি বাড়ি ভেসে গেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববার দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোর্খা জেলায় পাহাড়ি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ি এলাকার একটি নদী দিয়ে ঘন কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষসহ প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি এএফপিকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিধসে নদীর গতিপথে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে বন্যা দেখা দেয়।
বন্যায় তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও চারটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে অন্তত ৮২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন বিদেশি নাগরিক।
উপ্রেতি বলেন, ‘পাঁচজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’ উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে চারটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে কর্তৃপক্ষ নদীর কাছাকাছি বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করে।
গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে নেপাল। ওই ঘটনায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং পাঁচ হাজারের বেশি নিখোঁজ হন।
চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার স্থানীয় কর্মকর্তা লক্ষ্মী গুরুং বলেন, ‘এবারের বন্যা আগের ঘটনার মতোই মনে হয়েছে। এটি খুবই ভয়াবহ ছিল। এখনো দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি ভেসে গেছে, বিদ্যুৎ নেই। তবে কেউ মারা যাননি।’
কাঠমান্ডুভিত্তিক সেন্টার ফর ইনটিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) জানিয়েছে, হিমালয়ের নদীগুলোতে বিভিন্ন কারণে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে, এবারের ঘটনা তা আবারও সামনে এনেছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক পেমা গ্যামশো এক বিবৃতিতে বলেন, আপাতত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে বন্যার কারণ জানা জরুরি।
এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
