‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা সরকার করছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
বিকেলে চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
খুলনায় রাতে পুলিশের চলাফেরা নিয়ে নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধ দমন করতে গেলে পুলিশ মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
আসামিদের পালাতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে কেউ যদি আসামিকে সহায়তা করে, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেব।’
সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করারও আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা, ডিসেম্বরে নাশকতার আশঙ্কা এবং বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে সরকার চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। তবে বিষয়গুলোকে তিনি চ্যালেঞ্জ মনে করেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। আধুনিক ডিজিটাল জগতে যেসব সাইবার অপরাধ হচ্ছে, সেগুলো ঠেকাতে আমাদেরও সমানভাবে প্রস্তুত হতে হবে। ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আমরাও সুসজ্জিত হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই পুলিশের সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছিলাম। সেটি আমরা গঠন করেছি এবং গত ১ অক্টোবর থেকে এটি কাজ শুরু করেছে। খুব শিগগির দেশের আটটি বিভাগের সদর দপ্তরে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব করা হবে।’
এসব ল্যাব প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আজ দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
এ ছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আমিন এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন।
