ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের হামলার দায় নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুকে মিত্র দেশের নেতারা ‘আগাম সতর্কতা দিয়েছিলেন’, কিন্তু সে অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করেননি তিনি—এমন খবর বারবার প্রকাশ্যে আসছে। তবে এ ধরনের প্রতিটি অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের আলোচনা নেতানিয়াহুর জন্য বেশ বিব্রতকর।
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ওই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু।
কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে নেতানিয়াহু সব পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে বাইরের শত্রুর হাত থেকে নিরাপদ রাখার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন। নিজেকে দেশটির সুরক্ষাদাতা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
তার দাবি, হামলার দিন ভোরে শিন বেতের তৎকালীন প্রধান রোনেন বার অথবা সামরিক কর্মকর্তারা তাকে ফোন করে ঘুম থেকে জাগালে তিনি হামলাটি ঠেকাতে পারতেন।
এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন রোনেন বার। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন তিনি। তার কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ শেকেল (প্রায় ১২ কোটি টাকা) দাবি করেছেন বার।
আদালতে জমা দেওয়া ১৩৪ পৃষ্ঠার নথিতে রোনেন বার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা বলার’ অভিযোগ এনেছেন।
হামাসের হামলার ঘটনায় তাকে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা এবং হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থতার জন্য তাকে অভিযুক্ত করা মানহানিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের ঘটনার জন্য নিজের দায় থেকে আলোচনা অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নেতানিয়াহু বারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন।
রোনেন বার দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেও জানেন, এই অভিযোগ সত্য নয়।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, বরং ওই ঘটনার জন্য নেতানিয়াহুর কয়েক বছরের অনুসৃত নীতিই দায়ী। ওই নীতির কারণে গাজায় তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনগুলোর হুমকি বেড়েছে।
২০২৫ সালের জুনে পদত্যাগ করেন শিন বেতের পরিচালক বার। সংস্থার প্রধান হিসেবে নিজের দায়িত্ব স্বীকার করতেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন বলে জানান। ৭ অক্টোবরের আগেই হামাস-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
বারের ভাষ্য, সম্ভাব্য হামলার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবকে ফোন করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর সরাসরি ফোন নম্বর তার কাছে ছিল না।
বুধবার নিজের দল লিকুদের দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘রোনেন, তুমি কি সত্যি বলছ?’
তিনি বলেন, ‘রেড লাইনে আমার নম্বর তোমার কাছে ছিল। অন্য সব নিরাপত্তাপ্রধানের মতো তুমিও আমাকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করতে পারতে।’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি যদি সময়মতো ফোন করতে, তাহলে আমরা কত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারতাম?’
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, হামাসের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন।
এর জবাবে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
