দ. কোরিয়ার জনপ্রিয় ১০০ গানের তালিকায় তৃতীয় এআই দিয়ে বানানো গান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি একটি গান দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গানের তালিকায় উঠে এসেছে। এতে গান তৈরিতে মানুষের পাশাপাশি এআইয়ের ভূমিকা ও গানটির স্বত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী,‘দ্য অ্যাডাল্ট আই ড্রিমড অব’ শিরোনামের গানটি তৈরি করেছেন মেওমুরু। বুধবার গানটি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীত প্ল্যাটফর্ম মেলনের ‘টপ ১০০’ তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। জুনে প্রকাশিত গানটি সম্প্রতি কোরিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিওতে ব্যাপক ব্যবহৃত হওয়ায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তবে গানটিতে যে কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, তা কোনো মানুষের নয়। মেওমুরুর অ্যালবামের বিবরণ অনুযায়ী, গানটির কণ্ঠ তৈরি করা হয়েছে ‘শুনো’ নামের একটি এআই প্রোগ্রামের সাহায্যে। তবে গানের কথা লিখেছেন মেওমুরু নিজেই। পাশাপাশি পুরো সংগীত তৈরির পরিকল্পনা ও নির্দেশনার দায়িত্বও ছিল তার হাতে।

মেওমুরু নিজের ইউটিউব চ্যানেলের বিবরণে লিখেছেন, ‘আমার কাছে এআই আধুনিক একটি বাদ্যযন্ত্রের মতো। এটি আমার কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে। আমার বিশ্বাস, প্রযুক্তি বদলাতে পারে কিন্তু গল্প বদলায় না।’

জনপ্রিয় সংগীতের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া এআই-সহায়তায় তৈরি প্রথম গান নয় এটি। এর আগে ‘জোসন হিপহপ’ ব্যান্ডের ‘ফরেস্ট অব দ্য হার্ট’ গানটিও মেলনের ‘টপ ১০০’ তালিকায় ৮৯তম স্থানে ছিল। গানটির মূল ভাবনা ও কথা লিখেছিলেন একজন মানুষ। তবে সুর ও কণ্ঠ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল এআই।

এ ধরনের গানের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংগীতের স্বত্ব নিয়ে প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে। কোনো গানে মানুষ ও এআই দুজনই ভূমিকা রাখলে সেটির কপিরাইট কার হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দেশটির সংগীতশিল্প।

দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান কপিরাইট আইন অনুযায়ী, মানুষের সৃজনশীল অবদান স্বত্ব সুরক্ষা পেতে পারে। তবে সম্পূর্ণভাবে এআইয়ের তৈরি কোনো উপাদান নিজে থেকে কপিরাইট পাওয়ার দাবি রাখে না।

সমস্যাটির সমাধান খুঁজতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীত কপিরাইট সমিতি গত আগস্টে নতুন কিছু নিয়ম চালু করেছিল। এসব নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গান তৈরিতে মানুষ যদি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ভূমিকা’ পালন করেন, তাহলে এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গানও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোন এআইয়ের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, কতটা ব্যবহার করা হয়েছে এবং মানুষের অবদান কী এসব তথ্য জানাতে হতো।

কিন্তু নিয়মগুলো চালুর মাত্র ২২ দিন পরই তা প্রত্যাহার করে নেয় সমিতি। কারণ, এ নিয়ে যথেষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি। তা ছাড়া, একটি গানের কতটুকু মানুষের তৈরি আর কতটুকু এআইয়ের তৈরি, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের কোনো পদ্ধতিও ছিল না।

Related Articles

Latest Posts