নিকো পাজের নৈপুণ্যে জয়ে ফিরল কোমো

মাঝে তিন ম্যাচে জয়ের দেখা নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও হারতে হয়েছে ফেইনুর্ডের কাছে। মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কোমো যেন হঠাৎই পথ হারিয়ে ফেলেছিল। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে এবার জয়ে ফিরেছে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দল। আর এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন তরুণ নিকো পাজ। গোল করার পাশাপাশি করেছেন একটি অ্যাসিস্টও। তাতে ফিওরেন্তিনাকে তাদের মাঠেই ৩-১ গোলে হারিয়ে ইতালিয়ান সিরি আর পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে কোমো।

রোববার ফ্লোরেন্সের আর্তেমিও ফ্রাঙ্কি স্টেডিয়ামে ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে কোমো। প্রথমার্ধে মাত্তিয়া লিবেরালি ও নিকো পাজের গোলে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বিরতির আগে একটি গোল শোধ করে ফিওরেন্তিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আনাস্তাসিওস দুভিকাসের গোলে জয় নিশ্চিত করে ফ্যাব্রেগাসের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে কোমো। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৩৩ মিনিট পর্যন্ত। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সী লিবেরালি।

এর মাত্র চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাজ। সতীর্থের বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে হেডে গোল করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক ফিওরেন্তিনা।

তবে বিরতির আগেই ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় তারা। ৪২ মিনিটে সেট পিস থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো শটে গোল করেন মারিন পংগ্রাচিচ। তাতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় কোমো।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল ফিওরেন্তিনা। কিন্তু ৫৬ মিনিটে তাদের সেই আশায় বড় ধাক্কা দেন দুভিকাস। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে পাজের পাস পেয়ে গোলমুখে শট নেন গ্রিক ফরোয়ার্ড। শটটি খুব একটা জোরালো ছিল না। কিন্তু বল ঠিকভাবে আটকাতে পারেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক গোলরক্ষক দাভিদ দে গেয়া। তার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে যায় বল।

এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফিওরেন্তিনা। বাকি সময়ে ব্যবধান ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোমো।

এই জয় ফ্যাব্রেগাসের দলের জন্য স্বস্তিরও। মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত করলেও আন্তর্জাতিক বিরতির আগে থেকেই ছন্দ হারাতে শুরু করেছিল তারা। সিরি আয় ফ্রোজিনোনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর নিজেদের মাঠে দশজনের রোমার বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করেছিল কোমো। এরপর বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের মাঠে ৩-২ গোলে হারে তারা।

টানা তিন ম্যাচ জয়হীন থাকার পর ফিওরেন্তিনাকে হারিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফিরল কোমো। সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে তারা। তবে রোববার রাতে আতালান্তার বিপক্ষে জিতলে কোমোকে টপকে চতুর্থ স্থানে ওঠার সুযোগ রয়েছে এসি মিলানের।
 

Related Articles

Latest Posts