আলেমদের প্রতি ঐক্যের আহ্বান ও ফর্মুলা শায়খ আহমাদুল্লাহর

ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় সাম্ভাব্য জাতীয় ঐক্যের ফর্মুলা

ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে বলাই বাহুল্য। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, একটি জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তত বেশি অনুভূত হচ্ছে। কিছু কিছু ইস্যুতে মুসলিমদের জাতীয় ঐকমত্য এবং কমন ভোকাল থাকা জরুরি, যা মুসলিমদের জাতীয় স্বার্থে ধ্বনিত হবে।কিন্তু কারো সংখ্যাধিক্যের অহমিকা কিংবা কারো সংকীর্ণ চিন্তা বা নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়ে যাওয়ার ভয়— ঐক্যের পথে অনতিক্রম্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এটা ঠিক যে, সার্বিক ঐক্য কোনোদিন সম্ভব নয়। সেটা ইসলামের নির্দেশও নয়। সেজন্য প্রয়োজন কুরআন ও সুন্নাহর প্রামাণ্যতাকে স্বীকার করে— এমন সব মুসলিম ঘরানার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে জাতীয় পরিষদ গঠন করা। এই পরিষদের মূল কাজ হবে পারস্পরিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও ইসলাম ও মুসলিমদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা। সেক্ষেত্রে কারো নিজস্ব চিন্তাধারা ও ধ্যান-ধারণায় কোনো প্রকার কম্প্রমাইজ করতে হবে না। স্ব স্ব চিন্তাধারা আপন জায়গায় ঠিক রেখে কেবল জাতীয় ও সব ঘরানার কমন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে এই পরিষদ কাজ করবে। যেটাকে বলা হয় ‘ইত্তিহাদ মাআল ইখতিলাফ’ অর্থাৎ বৈচিত্রপূর্ণ ঐক্য তথা মতভিন্নতা সত্ত্বেও মতৈক্যপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

এ ধরণের ঐক্যের প্রস্তাবিত রূপপেখা:

✺ এই পরিষদ শুধু সেসব ইস্যু নিয়ে কথা বলবে এবং কাজ করবে, যেগুলোর ব্যপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই।

✺ যে কোনো ইস্যুতে কর্মপন্থা নির্ধারণের ব্যপারে ‘সবার ঐকমত্য’ই হবে মূল মানদণ্ড। যেমন কোনো ইস্যুতে শুধু যৌথ বিবৃতির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন, তাহলে শুধু সে উদ্যোগই নেবে এই জাতীয় পরিষদ।

✺ ছোট কিংবা বড় এমনকি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মুসলিমদের দল-উপদল কিংবা জামাত যেন এই পরিষদের বাইরে না থাকে, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে।

✺ এই পরিষদ নিজেদের মধ্যকার কোনো মতপার্থক্যপূর্ণ ইস্যুতে কোনো মন্তব্য কিংবা কাজ করবে না।

✺ জাতীয় পরিষদের কাজের পরিধি, কর্মপন্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্তিক নীতিমালা এমন স্পষ্ট করে প্রণীত হবে, যাতে কোনো প্রকার সংকট তৈরি হওয়ার শংকা না থাকে।

✺ ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল এমন কিছু বিচক্ষণ ও দূরদর্শী লোক দ্বারা গঠিত পরিষদের একটি ছোট আহবায়ক কমিটি থাকতে পারে, যাঁরা প্রধান প্রধান বলয়গুলোর নেতৃত্বে আছেন। এই কমিটির মূল কাজ হবে তাঁরা জাতীয় ইস্যুতে পরিষদের সভা আহ্বান করবেন।

✺ জাতীয় পরিষদের একক কোনো আমীর নির্বাচন করার ব্যপারে ঐকমত্যে পৌঁছুতে না পারলে প্রতিটি বৈঠকের জন্য সিনিয়রদের মধ্য থেকে লটারি বা পালা করে সভাপতি নির্বাচন করা যেতে পারে।

✺ পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি অন্য সদস্যদের মতামত নিয়ে উদার, বিচক্ষণ এবং মিডিয়া ফেস করার মতো একজন ব্যক্তিকে পরিষদের মুখপাত্র বানাবে। তিনি কোনো ছোটো ঘরানার লোক; এমনকি আহ্বায়ক কমিটির কেউও হতে পারেন। তাঁর কাজ হবে পরিষদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিডিয়ায় সতর্কতার সাথে ব্রিফ করা।

এমন আরো বহু ধারা-উপধারা প্রণয়ন করা যেতে পারে। কিন্তু যে কোনো মূল্যে এরকম কিছু একটা করা অপরিহার্য। কেউই নিজেকে নিরাপদ মনে করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যে অবাস্তব, সেটা সম্ভবত ইতোমধ্যে অনুমান করা গেছে।

এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন আলোচনা। সেটা সবাই যার যার পরিধিতে শুরু করতে পারি। শুরুটা করা গেলে বাস্তবরূপও এক সময় দেখা যেতে পারে ইন শা আল্লাহ। ঈমাদারের নৈরাশ্যের কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে পারি, বৈচিত্রপূর্ণ ঐক্য একদিন হবে ইন শা আল্লাহ।

শায়খ আহমাদুল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published.