যুক্তরাষ্ট্রে এখন করোনাকালের চেয়েও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেশি

কোভিড ১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারির সময় গোটা বিশ্বে সরবরাহ শৃঙ্খল বড় আকারে বিঘ্নিত হয়। শাটডাউনের কারণে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েন। সে সময় অনেক দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। 

এমন কী, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশেও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। 

করোনাভাইরাস মহামারি আজ অতীত। কিন্তু সাম্প্রতিক এক জরিপে জানা গেছে, করোনাকালের চেয়েও বেশি মানুষ এখন ক্ষুধার্ত থাকছেন।

খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ঘটছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। 

গতকাল বুধবার নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ (কেন্দ্রীয়) ব্যাংক একটি জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।  

আজ বৃহস্পতিবার এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২০০ পরিবার এই জরিপে অংশ নেয়। তাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। 

প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল তাদেরকে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে জমানো টাকা বা জরুরি প্রয়োজনের জন্য আলাদা করে রাখা অর্থ খরচ করতে হয়েছে কি না, প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ঠ খাবার জোগাড়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে কি না, বাড়ির এক বা একাধিক শিশু অন্তত এক বেলা না খেয়ে থাকেছে কি না অথবা তারা খাবার কেনার জন্য অনুদান বা সরকারি ত্রাণ গ্রহণ করেছে কি না। 

নিউইয়র্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত, ‘আমরা খাদ্য নিরাপত্তায় অবিশ্বাস্য ঘাটতি চিহ্নিত করেছি। বিশেষত ছোট শিশু আছে এমন স্বল্প-শিক্ষিত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।’ 

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই এই জরিপের কাজ শেষ হয়। 

 

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করে। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায় এবং তা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। 

জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর ৩৩ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা দৈনন্দিন খরচ মেটাতে জমানো অর্থ খরচ করতে বাধ্য হয়েছেন। 
২০২০ সালের জুনে সংখ্যাটি ২১ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। 

করোনাভাইরাস মহামারি তখন ছিল তুঙ্গে। শাটডাউনের কারণে অনেক মানুষ ঘরে আটকে থেকে কর্মসীন হন।  ওই মাসে বেকারভাতা পাওয়া মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি।  

করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং বিপুল চাহিদার কারণে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়ে যায়। 

এ বছরের জরিপে ১০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাদের বাড়িতে যথেষ্ঠ খাবার নেই এবং শিশুরা প্রতিদিন অন্তত এক বেলা করে খাবার খেতে পাচ্ছে না। 

সংখ্যাটি ২০২০ সালের জুনে ৪ শতাংশ ছিল। 

১৫ শতাংশের বেশি মানুষ জানিয়েছেন তারা অনুদান হিসেবে খাবার পেয়েছেন, যা ২০২০ সালে ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। 

নিউইয়র্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মত দেয়, ‘ভোক্তারা তাদের নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন।’

Related Articles

Latest Posts