মাঝে কিছুদিন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও গাজা থেকে নজর সরাননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র বাহিনী হামাসকে ‘নির্মূল’ করার লক্ষ্য থেকেও বিচ্যুত হয়নি ইসরায়েলি সেনা।
এই ধারায় হামাসের সশস্ত্র বাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে তেল আবিব।
আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
ইসরায়েলের সেনার হামলায় হামাসের সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন আল কাশেম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মেদ ওদেহ নিহত হয়েছেন। এমনটাই দাবি করেছে তেল আবিব।
গত ১৫ মে ওদেহ’র পূর্বসূরি এজ্জেদিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের সশস্ত্র সংগঠনের কমান্ডারকে গতকাল গাজায় নির্মূল করে তার সহযোগীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য নরকে পাঠানো হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ওদেহকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনা ও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট।
বিবৃতি মতে, ১৫ মে পূর্বসূরি এজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন মোহাম্মেদ ওদেহ।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপি হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংগঠনটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হামাস ওদেহ’র নিয়োগ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বা তার নিয়োগ নিশ্চিত করেনি।
দীর্ঘদিন হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন ওদেহ।
কাৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে নির্মূল করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমরা সেটাই করে দেখাব। তাদের সবার ওপর মৃত্যুর নিশানা ঝুলছে—তারা যেখানেই থাকুক না কেন।’
তিনি গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যের কথা আবারও পুনরাবৃত্তি করেন। পাশাপাশি, গাজার বাসিন্দাদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গাজা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে—সব কিছুই সঠিক সময়ে, সঠিক উপায়ে কার্যকর করা হবে।’
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরিয়ে নেওয়ার প্রকল্পের পেছনে সমর্থন যোগাচ্ছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ।
এর আগে একবার এই পরিকল্পনায় সায় দিলেও পরবর্তীতে সে অবস্থান থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় এক হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫০ ব্যক্তিকে জিম্মি করে হামাস।
ওই ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার নেপথ্যে থাকা হামাস নেতাদের চিহ্নিত করে হত্যার অঙ্গীকার করেন।
সেদিন থেকেই গাজার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলা ৭১ হাজার ৮০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া ও গাজা প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করে।
পরবর্তীতে আল কাশেম প্রিগেডের দীর্ঘসময়ের প্রধান মোহাম্মদ দেইফ এবং ইয়াহিয়া সিনওয়ারের উত্তরসূরি ও আপন ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ারকেও হত্যা করে দেশটি।
লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা ও হামাস নেতাদেরও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন।
