ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’, তবে ওজন কমানো উচিৎ: চিকিৎসক

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (৭৯) নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন। 

পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নিযুক্ত চিকিৎসক মত দেন, ট্রাম্প ‘চমৎকার’ স্বাস্থ্যের অধিকারী। তবে তার ওজন কমানো উচিৎ। 

আজ শনিবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

গতকাল শুক্রবার এ বিষয়ে একটি সরকারী বার্তা (মেমো) প্রকাশ করা হয়েছে। 

ট্রাম্পের চিকিৎসক মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন শন বারবাবেলা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী। তার হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা শক্তিশালী ও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।’

‘(প্রেসিডেন্টকে) প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে আছে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে দিকনির্দেশনা, স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণের সুপারিশ, শারীরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি ও ওজন কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ’, যোগ করেন তিনি। 

তবে ওজন কত কেজি কমানো উচিৎ, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। 

তিন পৃষ্ঠার মেমোতে ট্রাম্পের শারীরিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন রোগনির্ণয়মূলক পরীক্ষার একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের কাছে অবস্থিত ওয়াল্টার রিড মেডিকেল হাসপাতালে এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যান ট্রাম্প। 

বারবাবেলা মত দেন, ট্রাম্প ‘সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সব ধরনের দায়িত্ব পালনে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সক্ষম।’

জুন মাসে ৮০ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বর্তমানে তিনটি ওষুধ নিয়মিত সেবন করছেন তিনি। 

এর মধ্যে দুইটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি, ‘হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে’ তিনি অ্যাসপিরিনও সেবন করছেন।  

৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১৯১ সেন্টিমিটার) উচ্চতার ট্রাম্পের ওজন বেড়ে বর্তমানে ২৩৮ পাউন্ড (১০৮ কিলোগ্রাম) হয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন মতে তার ওজন ছিল ২২৪ পাউন্ড (১০১ দশমিক ৬ কিলোগ্রাম)। 

অর্থাৎ, এক বছরে ট্রাম্পের ওজন প্রায় ১৪ পাউন্ড (৬ দশমিক ৪ কিলোগ্রাম) বেড়েছে।

গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর এটি ছিল ট্রাম্পের তৃতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

হাতে দৃশ্যমান কালশিটে দাগ ও বিভিন্ন বৈঠকে তাকে ঝিমাতে দেখার পর ট্রাম্পের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। 

ট্রাম্পের হাতে দেখা যাওয়া কালশিটে দাগ সম্পর্কে মেমোতে বলা হয়েছে, ‘হাতের পৃষ্ঠদেশ পরীক্ষা করে ইকাইমোসিস বা কালশিটে দাগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নিয়মিত করমর্দন করতে বাধ্য হওয়া এবং হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে হাতের নরম ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই এ ধরনের দাগ দেখা যাচ্ছে’।  

অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরপরই তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে দাবি করেন যে পরীক্ষাটি নিখুঁতভাবে শেষ হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts