ত্যাগ, ঘাম ও দ্বিতীয় সুযোগ: নতুন শুরুর অপেক্ষায় জিকো

পুরো দেশ যখন পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল তখন অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছে।

দেশের মর্যাদার জন্য উৎসবের এই সময়ে বাড়ি থেকে দূরে থাকার ত্যাগ স্বীকার করা খেলোয়াড়দের জন্য এক পরিচিত দৃশ্য। বিশেষ করে, নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে সান মারিনোর বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে এই ত্যাগ অপরিহার্য।

কিংস অ্যারেনায় ছয় দিনব্যাপী বর্তমান অনুশীলন ক্যাম্পের সব আলো যেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর ওপরই পড়ছে, যিনি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় দলে ফিরেছেন।

মাঠের বাইরে কঠিন সময় কাটানোর পর দারুণ এক ঘরোয়া মৌসুমে পাওয়া সফলতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরেছেন জিকো। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে তিনি নিজ ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের ঐতিহাসিক তিনটি শিরোপা জয়ের কীর্তিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমকে জিকো বলেন, ‘অবশ্যই, আজ ঈদের দিন, আমাদের মুসলমানদের জন্য একটি আনন্দের দিন। পরিবারের সঙ্গে দিনটি কাটাতে না পারাটা একটু কষ্টের হলেও দেশের জন্য আমাদের এই ত্যাগ স্বীকার করতেই হয়। আমি আগেও অনেকবার এমনটা করেছি।’

নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতি করার কঠিন লড়াই ও কঠোর পরিশ্রমের পর জাতীয় দলে ফিরেছেন জিকো। এই যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এর জন্য আমি দীর্ঘ সময় ধরে অবিশ্বাস্য রকমের কঠোর পরিশ্রম করেছি। সকাল-সন্ধ্যা জিমে সময় দিয়েছি, নিজেকে ক্রমাগত ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের গোলরক্ষক কোচ (নুরুজ্জামান) নয়ন আমাকে দারুণ সমর্থন দিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে, আমি পুরো ঘরোয়া মৌসুমে খেলেছি এবং আমরা ট্রেবল (তিনটি শিরোপা) জিতেছি। এটি অত্যন্ত কঠিন এক পথচলা ছিল। তবে জাতীয় দলে ফিরতে পেরে দারুণ লাগছে।’

যেসব বিতর্ক বা পারফরম্যান্সের ঘাটতির কারণে তিনি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে তাকানোর কথা জানান জিকো, ‘আপনারা সবাই ওই বিষয়ে (বাদ পড়ার কারণ) আগে থেকেই সবকিছু জানেন। তাই আমার নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই। এটা এখন অতীত, আর আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি এখন এখানে আছি এবং এখান থেকেই আমার যাত্রা এগিয়ে নিতে চাই।’

জার্মান বংশোদ্ভূত নতুন আমেরিকান কোচ ডুলির অধীনে শুরুর একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়াটা যে মোটেও সহজ হবে না, তা স্বীকার করেছেন জিকো।

এই গোলরক্ষকের ভাষ্য, ‘চ্যালেঞ্জটা এখন নিশ্চিতভাবেই অনেক বড়। অন্য গোলরক্ষকরাও খেলছে এবং ভালো পারফর্ম করছে। তবে আমি পুরোপুরি ফিট। যদি আমি আমার জায়গা ফিরে পাই, তবে দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটাই দেব।’

Related Articles

Latest Posts