৬ নবজাতকের মৃত্যু: অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে না আদ-দ্বীন

ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হয়েছে এবং আজ রোববার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।

আজ দুপুর আড়াইটার দিকে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ ও কোম্পানি অ্যাফেয়ার পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সরকারি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকায় তারা প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন না। এটি সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে। তবে তদন্তে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

গত ২৭ মে বুধবার পোস্ট-অপারেটিভ রুমে এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয়টি শিশুর মৃত্যু হলে ৭০০ শয্যার এই হাসপাতালটি আলোচনার কেন্দ্রে আসে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই কক্ষের কোনো কারিগরি ত্রুটি কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল শনিবার, তবে সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

তদন্ত চলাকালে গতকাল শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি হাসপাতাল-সংলগ্ন একটি ভবনের ওপরের তলায় বেকারির কারখানা দেখতে পান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে এমন বেকারি কারখানা থাকা উচিত নয়। সেখানে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করা হবে এবং কারখানা থেকে কোনো গ্যাস বা রাসায়নিক নির্গত হচ্ছে কি না, সেটিও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কক্ষের ভেতরে গন্ধ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরই হাসপাতালে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সাংবাদিককে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

 

Related Articles

Latest Posts