স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তারা মাঠপর্যায়ে কোনো প্রকার তদন্ত বা জাজমেন্ট না করে শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করে। তাই এই প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠান শেষে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী আলোচিত তিনটি ঘটনায় প্রশংসনীয় অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী। এ নীতির আলোকে পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি এবং তাদের আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য যথাযথ তিরস্কারের সংস্কৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ চিত্রের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত ও রুটিন ওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধের সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে থাকে, যা সম্পূর্ণ সন্তোষজনক। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি সংবাদকেই মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের সরকারি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান জাতীয় আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্ত বা পোস্টমর্টেমের ক্ষেত্রে যে বরাদ্দ রয়েছে, তা হয়তো সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম ও পুলিশি টহল আরও গতিশীল করতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্ট বা দণ্ডবিধির অধীনে মামলা রয়েছে, তারা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন হবেন। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
