আমাদের এইচএসসিকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান বিবেচনা হয়: ববি হাজ্জাজ

দুই দশকের অবহেলায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমন এক সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, দেশের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাকে প্রায়ই সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সম্পূরক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ২০ বছরের শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে পারছে না।’

‘এমনকি সিঙ্গাপুরেও আমাদের এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষাকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এই সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন বাজেটকে ‘জনবান্ধব’ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার একটি নকশা।’

‘দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে এবার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগে শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা হতো। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।

সংসদের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু বিরোধী দলের কিছু সদস্য সাংস্কৃতিক শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন।’

‘যে বিষাক্ত মানসিকতা থেকে একসময় নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছিল, সেই একই মানসিকতা থেকে এখন বলা হচ্ছে, সাংস্কৃতিক শিক্ষা শিশুদের বিপথে নিয়ে যাবে,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।

Related Articles

Latest Posts