পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
তিনি জানান, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীরকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ চলছে।
আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, মামলাগুলোর নথিপত্র চূড়ান্ত হলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জারি করা ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’–এর ভিত্তিতে তাকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুবাই পুলিশ গত ১২ জুন বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।
ট্রাইব্যুনালে ১০ মামলা
বেনজীর গ্রেপ্তারের পর আজ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। তার বিষয়ে তিনটি পরোয়ানা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা ইন্টারপোলে পাঠানো হবে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে একটি মামলার আইনি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলার তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শিগগিরই এই অভিযোগ জমা দেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আরও ছয় থেকে সাতটি মামলার তদন্ত চলছে। বেনজীর একাধিক গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছিল, তবে সেগুলো ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে। এ জন্য দুদক ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছে।
