বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের মহত্ত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে জার্মান কিংবদন্তি মিরাস্লাভ ক্লসের ১৬ গোলের বিশ্বকাপ রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তবে দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের মাঝেও ম্যাচের একটি ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝামাঝি সময়ে আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর একটি কঠোর ট্যাকল করেন মেসি। বলের নিয়ন্ত্রণে থাকা মান্দির ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেনডনে স্টাডস তুলে আঘাত করেন তিনি। ঘটনাটি দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, অন্তত একটি হলুদ কার্ড তো বটেই, এমনকি লাল কার্ডও দেখানো হতে পারত।
কিন্তু পোলিশ রেফারি সায়মন মারকিনিয়াক কেবল ফ্রি-কিক দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেন। কোনো কার্ডই দেখানো হয়নি। ফলে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল মেসির সেই ট্যাকল এবং তিনি আদৌ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন কি না।
ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, মেসি সেদিন ভাগ্যবান ছিলেন। সাধারণভাবে এমন ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ডই সবচেয়ে প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত হতো। কেউ কেউ আবার এটিকে সরাসরি লাল কার্ডের ঘটনাও বলে মনে করছেন। ফলে কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেসি কোনো কার্ড না পাওয়ায় আপাতত নিষেধাজ্ঞার কোনো ঝুঁকিতে নেই। যদি ওই ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখানো হতো, তাহলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কার্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাকে সতর্ক থাকতে হতো। আর লাল কার্ড পেলে সরাসরি পরের ম্যাচেই খেলতে পারতেন না। ফলে আগামী ২২ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
আর্জেন্টিনার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। কারণ আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি শুধু তিনটি গোলই করেননি, পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। নিজের অর্ধ থেকে বল কেড়ে নেওয়া, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়া এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়া, সবকিছুতেই ছিল তার ছাপ।
