দেশের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত প্রতিটি তথ্য সত্য বলেই ধরে নেওয়ার কথা। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে তথ্যগত নির্ভুলতা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
কিন্তু বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সংসদে দেওয়া নানা বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল, সরকার, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে অনেক সময় পরিসংখ্যানগত ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য বা বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সত্যতা বা অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের ‘বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ কিংবা ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ প্রসঙ্গে বিএনপির সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ‘মিরাক্ল’ বলা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সংসদে কেন বিভ্রান্তিকর তথ্য
গত এপ্রিলে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। অথচ, ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বলেছিলেন, ‘বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে ৫টি জায়গায় জলজট তৈরি হয়েছিল, জলবদ্ধতা না।’
গত ২ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে ‘মিথ্যা’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে বিতর্ক হয়। শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আগের দিনের মুলতবি প্রস্তাব সংক্রান্ত বক্তব্যে ‘সত্য-মিথ্যা চমৎকারভাবে ওলটপালট’ করার অভিযোগ আনেন।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় উল্লেখ করে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ বা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী ‘মিথ্যা’র পরিবর্তে ‘অসত্য’ শব্দ ব্যবহার করাই নিয়ম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত, দলীয় ও কৌশলগত বিভিন্ন স্বার্থে সংসদে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের আশ্রয় নেন। অনেকে নিজের বক্তব্যকে আরও জোরালো ও কর্তৃত্বপূর্ণ করতেও এমন ধরনের মন্তব্য করে থাকেন।
অতীতেও দেখা গেছে, সংসদ অধিবেশনে অনেক এমপি নিজের বা দলের কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রীর কৃতিত্ব বড় করে দেখাতে অনেক ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে দমাতে ‘মিথ্যা’ বা ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য উপস্থাপন করতে দেখা গেছে।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতার অভাব ও জনগণের তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই না করার প্রবণতার কারণে সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনেক জনপ্রতিনিধির মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা কাজ করে যে, দেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সরল, অসচেতন কিংবা তথ্য যাচাইয়ে আগ্রহী নন। এ কারণে সংসদে দাঁড়িয়ে যেকোনো বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত কথা বললেও তারা সহজে পার পেয়ে যাবেন—এমন মনস্তত্ত্ব থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে পারেন।’
সাম্প্রতিক ইস্যু
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় সীমান্ত ও দিগন্ত নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন নিয়ে গত ১৫ জুন সংসদে বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্য জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বগুড়া থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলমের বড় ছেলের নাম সীমান্ত ও ছোট ছেলের নাম দিগন্ত।
বিষয়টি নিয়ে কৈফিয়ত দিতে গিয়ে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলম সংসদে বলেন, ‘মিরাক্লে আমার সন্তানদের নামের সাথে মিলে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমার সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত। আমার যদি ইনটেনশন থাকতো সন্তানের নামে করার, তাহলে তো আমি প্রশাসনকে বলতাম যে, ইউনিয়নের নাম রাখেন মীর সীমান্ত, না হলে মীর দিগন্ত। কিন্তু নামের আগে তো মীর নাই!’
প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়নের নামকরণে তার প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার না করলেও সমালোচনার মধ্যে ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে নবগঠিত সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন।
মীর শাহে আলমের বক্তব্যকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ প্রমাণিত করা না গেলেও, তার দেওয়া ব্যাখ্যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সংসদের বাজেট অধিবেশনে গত ১৪ জুন নীলফামারী–৪ আসনে জামায়াত এমপি আব্দুল মুনতাকিম বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমার বাবা আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাইয়ের ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জনের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’
কিন্তু নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা ১৯৭১ সালে শহীদ হলে তার জন্ম ১৯৮১ সালে কেন?
পরে বিতর্কের মুখে এমপি আব্দুল মুনতাকিম একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা বক্তব্যটা অসাবধানতাবশত এসেছে। বক্তব্যটা যেহেতু পারিবারিক বিষয়…সংসদের কার্যবিধি আছে, সেই অনুযায়ী আমরা প্রপার চ্যানেলে স্পিকার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কারেকশন দিয়েছি।’
রোববার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য আমার চেম্বারে এসে দেখা করেছেন এবং বলেছেন যে ভুলক্রমে তার মুখ থেকে এটা বের হয়েছে। তার পিতা এখনো জীবিত আছেন তিনি জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য নিজেও বক্তব্য দিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন। এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তাই বক্তব্যটি সংসদের রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।’
এখন প্রশ্ন হলো সংসদে কী সংসদ সদস্যরা এমন ‘বিভ্রান্তিকর’ বা ‘অসত্য’ তথ্য উপস্থাপন করতে পারেন? আর যদি করেও থাকেন সেক্ষেত্রে সংসদের স্পিকার তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে পারেন?
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সংসদ সার্বভৌম, সংসদ সদস্যদের সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পূর্ণ স্বাধীনতা রাখেন।’
তবে সংসদ সদস্যদের আচরণ কেমন হবে, তারা কী বলতে পারেন কী পারেন না—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে তার উল্লেখ আছে বলে জানান এই আইন বিশেষজ্ঞ।
কী আছে কার্যপ্রণালী বিধিতে
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনি দলিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এই কার্যপ্রণালী বিধি প্রণয়ন হয় ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল। পরে ১৯৭৪ সালের ২২ জুলাই এটি প্রথম জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়।
এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন হলেও সংসদ অধিবেশন পরচালনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব, আইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা ও সংসদীয় কমিটির কাজ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করাই এই বিধির মূল উদ্দেশ্য।
জামায়াত এমপি মুনতাকিমের বক্তব্য ‘অসত্য’ বলে কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাতিল করা যায়।
কার্যপ্রণালী বিধির ৫৩ (২) (খ) অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যদি কোনো বিবৃতি দেন, তবে সেই বিবৃতির নির্ভুলতা বা সত্যতার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকেন।
যদি কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্যের অভিযোগ আনা হয়, তবে তিনি বিধি ২৭৪ অনুযায়ী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেওয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পান।
আর ৩০৭ বিধিতে বলা আছে, সংসদে আলোচনার সময় কোনো সদস্য যদি এমন কোনো শব্দ বা বক্তব্য ব্যবহার করেন যা স্পিকারের বিবেচনায় মানহানিকর, অশালীন, অসংসদীয় বা মর্যাদাহানিকর, তবে স্পিকার তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে সেই শব্দ বা বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাতিল বা এক্সপাঞ্জ করার আদেশ দিতে পারেন।
সংসদ সদস্যরা যা করতে পারেন না
কার্যপ্রণালি বিধি ২৬৭ সংসদ সদস্যদের আচরণের বিষয়ে কিছু সীমারেখা দিয়েছে।
অশালীন আচরণ: অন্য কোনো সদস্য যখন বক্তব্য দেন, তখন তাকে বাধা দেওয়া বা কোনো প্রকার গোলমাল করা যাবে না।
অপ্রাসঙ্গিক পাঠ: সংসদীয় কাজের সাথে যুক্ত নয় এমন কোনো বই বা সংবাদপত্র কক্ষে পড়া যাবে না।
চলাচলের শিষ্টাচার: স্পিকার এবং বক্তার মাঝখানের স্থান দিয়ে যাতায়াত করা নিষিদ্ধ।
আদালতের বিচারাধীন বিষয়: বাংলাদেশের কোনো আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।
রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে আসীনদের সমালোচনা: যথাযথ প্রস্তাব বা মোশন ছাড়া রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের আচরণ নিয়ে কোনো কটাক্ষ করা যাবে না।
অসংসদীয় ভাষা: কোনো আক্রমণাত্মক, কটু, অশ্লীল বা রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
কাজে বাধা দেওয়া: উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংসদের কাজে বাধা সৃষ্টির জন্য দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়া বা বিধিবিধানের অপব্যবহার করা যাবে না।
এসব বিধি না মানলে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, জানতে চাইলে শাহদীন মালিক বলেন, ‘সংসদের ভেতরে বক্তব্যের জন্য সংসদ সদস্যদের শাস্তির ব্যবস্থা থাকা সংসদীয় স্বাধীনতায় এক ধরনের হস্তক্ষেপ। তাছাড়া, কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালত বা কোর্ট প্রসিডিংয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ আদালতের এখতিয়ার সংসদের ভেতরের কার্যক্রমে সরাসরি খাটে না।’
তার ভাষ্য, অশালীন বা অসংসদীয় বিষয়গুলোকে আইনিভাবে শতভাগ সংজ্ঞায়িত করা অসম্ভব। তাই উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এই ধরনের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত শাস্তি দেয় জনগণ।
শাহদীন মালিক বলেন, ‘যেহেতু সংসদের অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং পরে এর কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়, তাই সচেতন জনগণ সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে একটা ধারণা পান, যার বহিপ্রকাশ হতে পারে পরের নির্বাচনে।’
প্রয়োজন সচেতনতা
সাধারণভাবে মনে হতে পারে সংসদ সদস্যদের অশালীন বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তাদের জনপ্রিয়তার জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় এসব চটকদার বক্তব্য এমপিদের জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে দেয়।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে সংসদে উপস্থাপিত বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকায় লেখা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকের কাছে এসব বিশ্লেষণ পৌঁছায় না। বেশিরভাগ মানুষ “চিলে কান নিয়ে গেছে” শুনে চিলের পেছনে ছোটায় অভ্যস্ত। যারা সততা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে সত্য তুলে ধরেন তাদের কথা সামনে নিয়ে আসতে হবে, মিথ্যা তথ্যের চেয়ে সেগুলোর প্রচারণা বাড়াতে হবে।’
‘আর জনগণের উচিত সব ধরনের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা। একটি কথা যদি স্পষ্ট মিথ্যা হয় তবে তাকে সমর্থন করা, কিংবা কারও ওপর যদি মিথ্যা দোষারোপ করা হয় সেটি মেনে নেওয়া—দুটোই খুব খারাপ কাজ। এই কাজগুলো থেকে আমরা তখনই বিরত হতে পারব, যখন আমাদের মধ্যে সচেতনতা আসবে এবং সত্য-মিথ্যা যাচাই বা বাছাই করার ক্ষমতা তৈরি হবে,’ যোগ করেন তিনি।
আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, জনগণ ধীরে ধীরে সচেতন হয়ে উঠলে সংসদ সদস্যরা তাদের গ্রহণযোগ্যতা টিকিয়ে রাখতেই এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন থেকে বিরত থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশে কোনো রাজনীতিবিদ মিথ্যাচার করলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাকে ভোট না দিয়ে বর্জন করে। আমাদের দেশে সচেতন জনসংখ্যার হার এখনো বেশ কম। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সংসদ গঠনের মাধ্যমে জনগণ ধীরে ধীরে সচেতন হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।’
