এবার কি তবে নেইমারের পালা?

লিওনেল মেসি দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করে রেকর্ড গড়ে আলোড়ন তুলে ফেলেছেন। কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডরা প্রতি ম্যাচে জোড়া গোল করে দেখাচ্ছেন তারা কতটা ক্ষুরধার। পর্তুগালের ফুটবল রাজা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও প্রথম ম্যাচের বিবর্ণতা সরিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে জানান দিয়েছেন, ‘আমি ফিরেছি’। আর নেইমার জুনিয়র? ব্রাজিলের পোস্টার বয় বিশ্বকাপে এখনো মাঠেই নামতে পারেননি।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা জানিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। শুরু থেকে না হলেও হয়ত ম্যাচের কোন এক ধাপে তাকে নামতে দেখা যাবে। কিন্তু তারকা, মহাতারকাদের দুরন্ত ঝলকের মাঝে নেমেই কি গোল পেয়ে যাবেন তিনি? এ বড় বাড়াবাড়ি আশা।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন সেই ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। এরপর চোটে পেরিয়ে গেছে লম্বা সময়। নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তো বটেই, পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ারেও পড়ে গিয়েছিলো বড় সংশয়। ক্রমশ যেন নেইমার হয়ে পড়ছিলেন সর্বোচ্চ মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়া তারা, মিইয়ে যাওয়া নাম। সৌদি প্রো লিগ থেকে ফিরে এসেছিলেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে সেরার মঞ্চ থেকে অনেক দূরে ভাবছিলেন সবাই।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়া ছিলো বড় এক প্রশ্নের মুখে। শেষ পর্যন্ত নান্দনিকতার নস্টালজিয়ার প্রভাব আর আবেগের স্রোতও কাজ করেছে তীব্র। শতভাগ ফিট না থাকলেও ‘পেশাদার’ কার্লো আনচেলত্তি এড়াতে পারেননি নেইমারের নাম।

নেইমারের চোট জর্জর ক্যারিয়ারের সর্বশেষ সংযোজন পাঁচ সপ্তাহ আগে পাওয়া কাফ মাসলের আঘাত। এটা থেকে সেরে উঠতে গিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ চলে গেছে। ব্রাজিল জানত গ্রুপ পর্বে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবু নকআউটে নামিয়ে দেওয়ার বাজি ধরে তাকে স্কোয়াডে রেখেছিল, কেবল তিনি নেইমার বলেই। সেই পায়ের কারিকুরি, সেই নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার তাড়না, সেই ডেডলক ভাঙার অবিশ্বাস্য মুন্সিয়ানা উপেক্ষা করা কঠিন। 

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমার মাঠে নেমে কতক্ষণ খেলেন এখন কৌতূহলের বিষয়। নকআউটে তাকে পুরো ছন্দে পেতে হলেও একটা গেম-টাইম দরকার। নেইমার ফেরার খবর পেয়েই সেলেসাও সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছেন। তবে তাদের বুঝতে হবে নেইমারের বাস্তবতাও।

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নেইমার নামতে যাচ্ছেন কোন প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়া। মেসি, রোনালদো, এমবাপে, হালান্ডরা যা করছেন নেইমার তেমন কিছুই করে ফেলবেন, এটা ভাবা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু হবে।

ফিটনেস কেবল ফিরে পেয়েছেন ব্রাজিলের নাম্বার টেন। তাকে এখনো দলের সমন্বয়ের সঙ্গে নিজেকে মানাতে হবে, বিশ্বকাপের আবহ গায়ে লাগাতে হবে, তারপর পেতে হবে মোমেন্টাম। অতিমানবদেরও এসবের জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

ব্রাজিলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি অবশ্য নেইমারকে নিয়ে কোন সংশয় রাখছেন না, ‘তিনি অত্যন্ত উঁচু স্তরে পারফর্ম করছেন। আজকের অনুশীলন সেশনে তার তীব্রতা আপনারা যদি দেখতে পারতেন। আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য তিনি কতটা উন্মুখ, তা স্পষ্ট এবং তার মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি খেলবেন কি না তা কোচের বিষয়, তবে আমার মনে হয় তিনি চমৎকার ফর্মে আছেন।’

হাইতিকে হারানোর ম্যাচে চোটে পড়েছেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলের দলের এখন যা অবস্থা তাতে নেইমারের মতো কেউ একজন তাদের লাগবেই। নেইমার বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনের নতুন ভূমিকায় কেমন করেন তা দেখতে মুখিয়ে থাকবে ফুটবল বিশ্ব।

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোররাতে নেইমারের পায়ের জাদু দেখা যাবে কিনা পরের বিষয়। তিনি নেমে কতক্ষণ খেলেন সেই প্রশ্ন আগে। এবং নেইমার কতটা মিলে যেতে পারেন দলের সঙ্গে, কতটা গায়ে মাখতে পারেন উত্তাপ তা দেখতে চাইবেন সবাই। এর বাইরে গিয়ে নেইমার যদি গোল পেয়ে যান সেটা হবে অপার্থিব।

 

Related Articles

Latest Posts