ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫।
তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও এই জোড়া ভূমিকম্পে বহু হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সে সময় অধিকাংশ মানুষই নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর মোরনের পশ্চিমাঞ্চলে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার। অন্যদিকে দ্বিতীয় কম্পনটির কেন্দ্র ছিল মোরন শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
তীব্র এই কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে ভেনেজুয়েলায় অনেক ভবন ধসে পড়েছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের কারণ কী ছিল?
ভেনেজুয়েলা এমন একটি ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান—এই দুটি টেকটোনিক প্লেট বা ভূ-গাঠনিক পাতের সংযোগস্থল রয়েছে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, আজকের দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে দ্বিতীয় এবং অধিক শক্তিশালীটি এই পাতগুলোর সীমানার কাছাকাছি শ্যালো স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিংয়ের (অগভীর চ্যুতি) ফলে সৃষ্টি হয়।
পাতগুলোর মধ্যবর্তী ফাটল বা চ্যুতি যখন আনুভূমিকভাবে সরে যায়, তখনই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর এই সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি হঠাৎ দ্রুতগতিতে ঘটলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
‘মানচিত্রে ভূমিকম্পকে সাধারণত একটি বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করা হলেও এই মাত্রার কম্পনগুলো আসলে একটি বিশাল চ্যুতি এলাকা জুড়ে হওয়া ভূ-বিচ্যুতির ফল।’
সংস্থাটির মতে, আজকের এই জোড়া ভূমিকম্প সম্ভবত ভূ-অভ্যন্তরের ফাটলগুলোর মধ্যে কোনো জটিল পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলছে, শক্তিশালী ঝাঁকুনিসহ আরও ‘আফটারশক’ অনুভূত হওয়ার শঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।
