ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর এখন চলছে উদ্ধার তৎপরতা। সেখানে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ লোকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধা ৬টা ৪ মিনিটে পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। জোড়া ভূমিকম্পের পর আরও অন্তত ২০টি আফটারশক অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।
ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং দেশের প্রধান বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫। এদের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যথাক্রমে ২২ কিলোমিটার এবং ১০ কিলোমিটার গভীরে।
প্রেসিডেন্ট আজ বৃহস্পতিবার জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানীর কাছে অবস্থিত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল লা গুয়াইরার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া সতর্কতা হিসেবে বেশ কিছু ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানান, ভূমিকম্পের ফলে রাজধানীতে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
ভূমিকম্পের প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠলে বাসিন্দারা ভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
তবে কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ইউএনজিআরডি) এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে।
মার্কিন ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার থেকেও এক্স-পোস্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্প থেকে সুনামির কোনো বিপদ নেই।
ভূমিকম্পপ্রবণ ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে ১৯৯৭ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ভূমিকম্পে ২৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
