লক্ষ্মীপুরে মা ও ২ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ‘ঘাতক’ নিহত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তার মা ও ছোট বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ঘাতককে ধাওয়া করে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। তাদের গণপিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গণপিটুনিতে নিহতের নাম অন্তর মজুমদার (৩৫)।

তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা বেশ কয়েক বছর ধরে রায়পুরের ওই বাসায় ভাড়া ছিলেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এসময় স্থানীয়দের হামলার মুখেও পড়তে হয় তাদেরকে। স্থানীয় লোকজনের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ছয়-সাত জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুরের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। ঘাতক অন্তর মজুমদার পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রায়পুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।’

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই দুই মেয়ের মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মা। তাদের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে।’

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা অন্তর মজুমদার নামের ওই যুবক ওই বাসায় যাতায়াত করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আজ বেলা পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে অন্তর মজুমদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করেন এবং মা ও তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘাতক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে গণপিটুনি দিলে তিনি মারা যান।

Related Articles

Latest Posts