তিন বছর পর হলুদ জার্সিতে ফিরে কাঁদলেন নেইমার

দিনের হিসেবে ৯৮১ দিন। বছরের হিসাব করতে গেলে প্রায় তিন বছর। এতগুলো দিন পর অবশেষে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে আবার মাঠে নামতে পেরেছেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান তারকার জন্য তাই আবেগতাড়িত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। নেইমার নিজেই জানিয়েছেন, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে গিয়ে একা একা কেঁদেছেন তিনি। 

৩৪ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের হয়ে সবশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছিলেন ২০২৩ সালে। সে বছরের অক্টোবরে হাঁটুর চোট, এরপর পড়তি ফর্ম, আবারও চোট- সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নেইমার দলে থাকবেন কি না তার নিশ্চয়তা ছিল না। ব্রাজিলের দল ঘোষণার দিন নেইমারের নাম উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে ভক্তদের মাঝে যে খুশির ধারা বয়ে গিয়েছিল, তাই প্রমাণ করে নেইমারকে এখনও ব্রাজিলিয়ানরা কতটা ভালোবাসে। 

এরপর অপেক্ষাটা ছিল নেইমারের মাঠে নামার। প্রথম দুই ম্যাচে সেই অপেক্ষা কেবল দীর্ঘই হয়েছে। অবশেষে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এলো সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যখন ৭৫ মিনিটে কুনিয়াকে উঠিয়ে নেইমারকে নামান আনচেলত্তি। ভেতরে ভেতরে আবেগের যে ফল্গুধারা বয়ে যাচ্ছিল, ম্যাচ শেষে সেটিকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি নেইমার। 

সাংবাদিকদের তিনি নিজেই জানিয়েছেন সে কথা, ‘লকার রুমে একা একা কিছুক্ষণ কেঁদেছি আমি। নিজেকে ভীষণ ভারমুক্ত মনে হচ্ছে। ব্রাজিলের হয়ে আবার মাঠে নামতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ আবার আমি এই সুযোগ পেয়েছি’। 

২০১৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই মাতিয়ে দেয়া নেইমারের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ। তবুও ব্রাজিলের জার্সির মাহাত্ম্য এখনও ঠিক আগের মতোই আছে তার কাছে, ‘আমি অনেক দিন পর দলে ফিরলাম। দলটা অনেক বদলে গেছে। নতুনভাবে দেখছি দলটাকে। এত বছর পর আবার ব্রাজিলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে ও আরেকটি বিশ্বকাপে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি’। 

৭৯ গোল নিয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। 

Related Articles

Latest Posts