দেম্বেলের নৈপুণ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ইরাককে উড়িয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখলো সেনেগাল

বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পর থেকেই ম্যাচটিকে দেখা হচ্ছিলো সময়ের দুই সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপে ও আরলিং হালান্ডের মহারণ হিসেবে। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন উসমান দেম্বেলে। তার প্রথমার্ধে করা দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। 

ম্যাচ শুরুর আগেই কোটি ফুটবলপ্রেমীর রোমাঞ্চে পানি ঢেলে দেন নরওয়ে কোচ। এমবাপ্পে একাদশে থাকলেও হালান্ডসহ গোটা শুরুর একাদশকেই বিশ্রাম দেয় নরওয়ে। সেনেগালের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা ১০ জনকেই বদল করে সম্পূর্ণ নতুন দল নামান নরওয়ে কোচ। এতে করে হালান্ড-এমবাপে মহারণ আর দেখা হলো না ফুটবল অনুসারীদের।  

তবে তাই বলে ম্যাচে আক্রমণ কিংবা রোমাঞ্চ কোনটিরই কমতি ছিল না। একদম প্রথম মিনিট থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে গেছে ফ্রান্স। এমবাপের শট বারে লেগে ফেরত না এলে মাত্র ২৫ সেকেন্ডেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। ৪ মিনিটে আরেকটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার কোনে, তবে নরওয়ে গোলকিপার দক্ষতার সাথে ফিরিয়ে দেন শট। 

এরপর মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো এমবাপের দারুণ বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন দেম্বেলে। ১২ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। আর্সনেসের চিপ করে পাঠানো বল দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন স্ট্রান্ড লারসেন, কিন্তু এরপর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও বারের উপর দিয়ে বল গ্যালারিতে পাঠান এই ক্রিস্টাল প্যালেস ফুটবলার। 

নরওয়েকে সমতায় ফেরার আর কোনো সুযোগ না দিয়ে ২০ মিনিটে আবারও গোল করে বসেন দেম্বেলে। আবারও মাঝমাঠ থেকে একই কায়দায় এমবাপের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন দেম্বেলে। এই গোলের ঠিক ৮০ সেকেন্ডের মাথায় একটি গোল শোধ দিয়ে জমজমাট ম্যাচের আভাস দেয় নরওয়ে। গোল করেন থেলো আসগার্ড। 

নরওয়ে যখন বিরতির আগেই সমতায় ফেরার উপায় খুঁজছে, তখন সেই রাস্তা আরও কঠিন করে দেন সেই দেম্বেলেই। ৩২ মিনিটের মাথায় নিজের তৃতীয় গোলটি করে রেকর্ডবুকে নিজের নাম তুলেছেন এই পিএসজি তারকা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেম্বেলের চেয়ে কম সময়ে হ্যাটট্রিক করার নজির আছে মাত্র একটি। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রবস্ট।

দেম্বেলে হ্যাটট্রিকটি আরও এক দিক থেকে দারুণ কীর্তি গড়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর এই প্রথমবার প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক দেখলো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে সতীর্থ এমবাপের সমান চার গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির ঠিক পেছনেই রইলেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। 

ম্যাচ যখন ৩-১ ব্যবধানেই শেষ হবে মনে হচ্ছিল, তখন স্টপেজ টাইমে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন আরেক পিএসজি ফুটবলার ডিজেরে ডুয়ে। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিই জিতলো দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

‘আই’ গ্রুপের আরেক ম্যাচও গোলবন্যা দেখেছে। এশিয়ার দেশ ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আফ্রিকান দেশ সেনেগাল। বড় এই জয়ে সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলো দেশটি। 

মাত্র চার মিনিটের মাথায় হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যায় ‘তেরেঙ্গা লায়ন্স’ হিসেবে খ্যাত সেনেগাল। ১৩ মিনিটে রেবিন সুলাকা লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইরাক। প্রথমার্ধের বাকি সময় ইরাক গোলবার আগলে রাখতে পারলেও বিরতির পরে এসে চারটি গোল আদায় করে নেয় সেনেগাল। 

৫৬ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন ইসমাইলা সার। তবে সেনেগালের হয়ে এদিন ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বদলি হিসেবে নামা পাপে গুয়েই। দলের তৃতীয় ও চতুর্থ গোলটি করার পাশাপাশি পঞ্চম গোলের এসিস্টও করেছেন তিনি। 

বিশাল এই জয়ে এখনো সেনেগালের আশা টিকে রইলো। বাকি গ্রুপগুলোর ম্যাচের দিকে এখন আগ্রহভরে তাকিয়ে থাকবে হবে তারা। তবে পাঁচ গোলের ব্যবধানের এই বড় জয় সেনেগালের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে অনেকটা। 

 

Related Articles

Latest Posts