শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত নতুন জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ঈথা’ মুক্তির আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। মহারাষ্ট্রের কিংবদন্তী তামাশা ও লাবণী শিল্পী বিথাবাই নারায়ণগাঁওকরের জীবনের ওপর নির্মিত। তবে আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সিনেমার নাম।
বলিউড লাইফের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি প্রকাশিত টিজারে শ্রদ্ধা কাপুরের নতুন রূপ দর্শকদের দৃষ্টি কাড়লেও মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং বিথাবাইয়ের পরিবারের সদস্যরা সিনেমার নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।
এনসিপির দাবি, বিথাবাই কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি মহারাষ্ট্রের লোকসংস্কৃতি, বিশেষ করে তামাশা ও লাবণী শিল্পের পথিকৃত। তাই তার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের নাম তার নামেই হওয়া উচিত।

দলটির মহারাষ্ট্র শাখার চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান বাবাসাহেব পাতিল বলেন, বিথাবাইয়ের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দেখানো প্রয়োজন।
তাদের মতে, ‘ঈথা’ নামটি সেই মর্যাদা যথাযথভাবে প্রকাশ করে না।
বিথাবাইয়ের দুই ছেলে কৈলাশ ও রাজেশ নারায়ণগাঁওকর এবং নাতি মোহিতও এনসিপির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, নাম ‘বিথাবাই’ হওয়াই উচিত।
বিথাবাই তার শিল্পজীবনে দুবার ভারতের রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন যথাক্রমে ১৯৫৭ ও ১৯৯০ সালে। জীবনের শেষ দিকে আর্থিক সংকটে পড়লেও লাবণী ও তামাশা শিল্পের প্রতি তার নিবেদন কিংবদন্তীর আসনে বসিয়েছে।

সিনমোর টিজারে বিথাবাইয়ের জীবনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনার নাট্যরূপ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, গর্ভবতী অবস্থায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করতে গিয়ে তার প্রসববেদনা শুরু হয়। তিনি মঞ্চ ছেড়ে সন্তান জন্ম দেন, নিজেই নাড়ি কাটেন এবং কিছুক্ষণ পর আবার মঞ্চে ফিরে নাচ শেষ করেন।
বাস্তবে ঘটনাটি কিছুটা ভিন্ন ছিল। সে সময় দর্শকেরা অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে নির্মাতারা তার অদম্য মানসিক শক্তি ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠাকেই চলচ্চিত্রে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সিনেমাটিতে শ্রদ্ধা কাপুরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন রনদীপ হুদা ও মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব। প্রযোজনা করেছে ম্যাডক ফিল্মস। আগামী ২৮ আগস্ট মুক্তির কথা রয়েছে।

শ্রদ্ধার লাবণী নৃত্যশিল্পীর রূপ ইতোমধ্যে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনয় হতে পারে।
তবে বিতর্কের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর বা ম্যাডক ফিল্মস। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, মুক্তির মাত্র দুই মাস আগে সিনেমার নাম পরিবর্তন করলে প্রচারণার পুরো পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। অন্যদিকে নাম পরিবর্তন না করলে বিরোধিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
