বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর নেইমার জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর তার একটি মন্তব্যেই জোরালো হয়েছে জাতীয় দল থেকে অবসরের গুঞ্জন। আর সেই মুহূর্তে ছেলেকে ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন এক খোলা চিঠি লিখেছেন নেইমারের বাবা।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই শেষ। আমার এখানকার পথচলা শেষ।’
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে আর কিছু না বললেও, তার বাবা দীর্ঘ এক বার্তায় ছেলেকে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান। ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘বাবা, ফুটবলটা খেলেই যাও। পায়ে বল নিয়ে খেলার আনন্দটা আবার খুঁজে বের করো। মাঠে আবার হাসো। আজ তুমি সুস্থ আছ। ঈশ্বর তোমাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন, যেটা তুমি সবসময় সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছ, সেটা করার। খেলাটা উপভোগ করো। সিদ্ধান্ত, সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের ব্যর্থতার ভার নিজের কাঁধে তুলে নিও না।’
চিঠিতে তিনি স্মরণ করেন নেইমারের শৈশবের দিনগুলোর কথা, ‘মনে হয় যেন সেদিনের কথা, যখন ছোট্ট সেই ছেলেটাকে পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতাম। খুব ছোটবেলাতেই বুঝেছিলাম, তোমার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সেটা শুধু প্রতিভা ছিল না, ছিল একটি উদ্দেশ্য।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি, ‘ভবিষ্যৎ ঈশ্বরের হাতে। আজ নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত তোমার পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। কোনো স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি মানেই সেটি শেষ হয়ে যায়নি। একটি কঠিন মুহূর্ত কখনো গল্পের শেষ লিখে দেয় না। আমাদের জীবনের শেষ অধ্যায় লেখেন ঈশ্বর।’
ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘এই পুরো পথচলায় আমি তোমার সঙ্গেই ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, সবই দেখেছি। পরে দেখেছি বিশাল সব স্টেডিয়ামের গর্জন, শিরোপা জয় আর পৃথিবীর নানা প্রান্তে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি। সেই ছোট্ট ছেলেটিকে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠতে দেখেছি। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে তোমার প্রতিটি পদক্ষেপের সাক্ষী হতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
বয়সকে কোনো বাধা মানতে নারাজ নেইমারের বাবা, ‘সেরাটা বয়স বা পরিস্থিতি দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সেরাটা নির্ভর করে ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর। সামনে এমন অনেক অধ্যায় অপেক্ষা করতে পারে, যা তুমি এখনো কল্পনাও করোনি। হয়তো ঈশ্বর তোমার জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা তোমার সবচেয়ে বড় স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাবে।’
চিঠির শেষেও ছেলের প্রতি নিজের নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি, ‘ততদিন পর্যন্ত সুখে থাকো। হালকা মন নিয়ে ফুটবল খেলো। আবার মানুষকে আনন্দ দাও। ছোটবেলায় ঈশ্বর তোমার হাতে যে প্রতিভা তুলে দিয়েছিলেন, সেটাই করে যাও। আর কখনো ভুলে যেও না পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন। বাবা, আবার সুযোগ পেলে আমি সবই করতাম, প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা আর প্রতিটি প্রার্থনা।’
