ইরানের হামলায় জর্ডানে ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্চের পর এই প্রথম দুই মার্কিন সেনা নিহত হলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। এ ছাড়া একজন সেনাসদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাসদস্যকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অন্য কয়েকজন সেনাসদস্য সামান্য আহত হলেও তারা আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।

তবে নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

এর আগে শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন বাহিনী ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করে।

আইআরজিসির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো ওই হামলায় কয়েকটি উড়োজাহাজ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে।

পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।

গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অস্থায়ী একটি অপারেশন সেন্টারে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ইউনিটের ছয় সদস্য নিহত হন। এর কয়েক দিন পর সৌদি আরবে এক হামলায় আহত হয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সার্জেন্ট মারা যান।

সবশেষ ১২ মার্চ ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান) বিধ্বস্ত হলে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। তবে ওই দুর্ঘটনা শত্রুপক্ষ বা মিত্রবাহিনীর হামলার কারণে ঘটেনি বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

সপ্তাহজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ এ হতাহতের ঘটনা ঘটল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে ইরান ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশেও হামলার লক্ষ্যবস্তু বাড়ছে।

শনিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধের সর্বশেষ ধাপে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের এক উপগভর্নর দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে এ দাবি নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
 

Related Articles

Latest Posts