‘একসঙ্গে থাকলেই আমরা আরও শক্তিশালী’

দীর্ঘ লড়াই, অতিরিক্ত সময়ের নাটক আর ফেরান তোরেসের নির্ণায়ক গোলে বিশ্বকাপের মুকুট উঠেছে স্পেনের মাথায়। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারেননি কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। খেলোয়াড়দের ‘একটি পরিবার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বললেন, এই প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্যই আজ বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে স্পেন।

আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। শিরোপা জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে আমি বিশেষভাবে গর্বিত। তারা এই আদর্শ নিয়েই বড় হয়েছে। তারা আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে একটি দল, একটি পরিবার হয়ে উঠতে হয়।’

২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও স্পেনের ঘরে তুলেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। তাই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি, ‘ওরা অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার। এই যাত্রায় তাদের পাশে থাকতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের ছিল।’

এরপর যোগ করেন, ‘পেছনে তাকালে আমি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। আমরা সবকিছু জিতেছি, আর এর চেয়ে সুন্দর অনুভূতি আর হতে পারে না।’

এই সাফল্যের মূল শক্তি হিসেবে দলগত ঐক্যকেই সামনে আনেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই প্রজন্মের ফুটবলাররা পুরো স্পেনের গর্ব। আমরা যখন একসঙ্গে থাকি, তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠি।’

ফাইনালে জয় এল অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে। তবে স্প্যানিশ কোচের বিশ্বাস, ম্যাচের ভাগ্য আরও আগেই নির্ধারিত হয়ে যেতে পারত। ‘আমার মনে হয় ম্যাচটা আরও আগেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। (এমিলিয়ানো) ‘দিবু’ মার্তিনেসের কয়েকটি অসাধারণ সেভ আমাদের আগেই জিততে দেয়নি।’

তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে সহজ কিছু আশা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি, ‘এটা বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রতিপক্ষ ১০ জনে নেমে গেলেও শেষ পর্যন্ত আপনাকে কষ্ট করেই জিততে হয়।’

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর একজন বেশি নিয়ে খেলেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে স্পেনকে। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব জয়ের স্বাদ পায় ‘লা রোহা’।
 

Related Articles

Latest Posts